স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা চাচাত ভাইয়ের

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চাচাত ভাইয়ের দায়ের কোপে শাপলা খাতুন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়া শাপলাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা আমিনা খাতুন ও হামলাকারীর মা কল্পনা খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সলঙ্গা থানার শাহরিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাপলা একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে। সে স্থানীয় ধামাইলকান্দি কেফায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। হামলাকারী তার চাচাত ভাই আশিক ওই গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। ঘটনার পর আশিককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শাপলার মা আমিনা খাতুন ও হামলাকারী আশিকের মা কল্পনা খাতুনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে কল্পনা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শাপলাসহ আমরা কজন বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ আশিক ছুটে এসে দা দিয়ে পেছন থেকে শাপলাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই শাপলা মারা যায়। আমরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আশিক আমাদেরও কুপিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আশিককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’

সলঙ্গা থানার ওসি জেডজেড মো. তাজুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ঘাতক আশিককে একমাত্র আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

ওসি আরও জানান, আশিক এক মাস আগে তার গ্রামের হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেছিল। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধাপাচাপা দেওয়া হয়। ফলে সে আবারও একই ধরনের অপরাধের সাহস পেয়েছে।

এদিকে স্কুলছাত্রী শাপলা হত্যার ঘটনায় তার সহপাঠীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। তারা দ্রুত হামলাকারী আশিকের বিচার দাবি করেছে।