বেহাল রাস্তা, চরে আটকা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা বাইগ্যার ঘাট এলাকার বালুচরে আটকা পড়েছিল লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই এলাকার মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে আসার সময় অসাবধানতায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টার পর অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করতে না পেরে লাশ খাটিয়ায় তুলে বাড়ি নেওয়া হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর একটি ক্রেন এনে অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করা হলে বুধবার বিকেল ৪ টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশে রওনা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ গহিরা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। পরে লাশটি বাড়ি আনার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। কিন্তু ওই মৃত ব্যক্তির বাড়ি পর্যন্ত যেতে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের অস্তিত্ব নেই। যে পথ দিয়ে ওই গ্রামের বাসিন্দারা চলাফেরা করেন সেই বেড়িবাঁধও ভাঙা। এ কারণে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বেড়িবাঁধ থেকে নেমে গহিরা সমুদ্র সৈকত দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাইগ্যার ঘাট এলাকায় গিয়ে অসাবধানতায় বালুচরের একটি গর্তে আটকা পড়ে। 

অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, এ অবস্থা জানলে আমি আসতাম না। গাড়ির বাতির আলোতে সমান দেখাচ্ছিল। ওইখানে চোরাবালির গর্ত আছে টেরই পাইনি। অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। পরে ক্রেন এনে উদ্ধার করি।

দক্ষিণ গহিরার বাসিন্দা আমানুল হক বলেন, এ গ্রামের মানুষ বছরে ছয় মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেন। একমাত্র সড়কটিরও অস্তিত্ব নেই। বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকজন চলাফেরা করেন। সেই বেড়িবাঁধটিও ভাঙাচোরা হওয়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকছে। এ জন্য এখানকার বাসিন্দাদের বর্ষা এলেই ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমাদের সঙ্গে অনেক গ্রামের মানুষ আত্মীয়তাও করতে চান না।