সেতুর ওপর ছাউনিতে ঈদ কাটলো ৭০ পরিবারের

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যার কারণে ৭০টি দরিদ্র পরিবারের ঈদের দিন কাটলো বংশাই নদীতে নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে। কারো চুলা জ্বলেছে আবার কারো জ্বলেনি, এভাবেই পার হল তাদের ঈদের দিন। খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তাদের।

উপজেলা সদরে পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগরপাড়া) বন্যার পানিতে অধিকাংশ বাড়িঘর নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতে ওই পাড়ার অন্তত ৭০টি পরিবার বংশাই নদীর ওপর নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নিয়েছে।

আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছে। কখনো রোদে পুড়ছে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

রবিবার সরেজমিনে ওই এলাকার মানুষগুলোর দুর্ভোগ, ঈদের দিন কিভাবে কাটলো তাদের সেই কথা জানা গেল।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশাই নদীর পাশে দুই শতাধিক দরিদ্র পরিবারের বাস। যাদের অধিকাংশেরই পেশা ছাতা ও গ্যাসলাইটার মেরামত। আর ফেরি করে কাচের জিনিস বিক্রি করা। অনেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা মূলত বেদে পরিবারের বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

সেতুটির ওপরে দুই পাশে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় ৭০টি ছোট ছোট পৃথক ছাউনি রয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়স্থলে ছোট ছোট শিশুরা খেলা করছে। অনেক শিশু চৌকিতে ঘুমাচ্ছে। বড়দের অনেকে ক্লান্ত শরীরে গবাদিপশুর সঙ্গে একই ছাউনিতে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। ঈদের দিনটি কিভাবে পার হল তাদের তা তারা বুঝতে পারেনি। বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় এসে থাকছে সেখানে আর ঈদ কেমন যেতে পারে তাই বললেন অনেকে।

গ্যাসলাইটার মেরামতকারী মাহাবুব বলেন, করোনার জন্য অনেকদিন কাম করতে পারি নাই। এখন আবার বন্যা। বাড়ি ছেড়ে এই ব্রীজে থাকছি।  অভাবের কারণে ঈদ কি, তা বুঝিনাই্।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহানাজ বেগম বলেন, করোনা ও বন্যার জন্যে কামাই নাই। পুলাপান লইয়া ঈদের দিনটা এমনেই গেল।

বৃদ্ধ পঙ্গু পাবস আলী বলেন, ভিক্ষা কইরা চলি। অহন পানির জন্যে ভিক্ষা করবার পারি না। খাওনই পাই না আর ঈদ করমু কেমনে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, সেতুর ওপর আশ্রয় নেওয়া লোকদের সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।