টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরে কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকলেও বিনোদনের স্থান ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন বিনোদনপ্রেমীরা।
ঈদে বিনোদনপ্রেমী মানুষগুলো একটু বিনোদনের জন্য রেলস্টেশন, কয়েকটি সেতু, মহাসড়কে নির্মিত ফ্লাইওভার এবং পাকা রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত পানির স্থানকে বেছে নিয়েছেন।
ঈদুল আজহার দিন কোরবানি নিয়ে সকলেই ব্যস্ত। পরেরর দিন থেকেই শিশু কিশোরসহ সব বয়সী লোকেরা একটু বিনোদনের আশায় এদিক-সেদিক ছুটতে থাকেন।
ঈদের পরদিন রবিবার বিকেলে সরেজমিনে মির্জাপুর রেলস্টেশন, বংশাই নদীর ওপর নিমিৃত এমপি একাব্বর হোসেন সেতু, ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের ধেরুয়া ফ্লাইওভার এবং পুষ্টকামুরী চরপাড়া পুরাতন সড়কের পানি প্রবাহের জায়গায় দেখা গেছে মানুষের ভিড়।
ট্রেন চলাচল ছিল বন্ধ। এই সুযোগে স্টেশনের পশ্চিম পাশে ছিল শত শত মানুষের ভিড়। শিশু, তরুণ, যুবক ও বয়স্করা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে ভিড় জমান। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা শিশুদের জন্য খেলনা, চটপটি, ফুচকাসহ নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন। ঈদে বিনোদনের জন্য আসা দর্শনার্থীরা সেখান থেকে ইচ্ছামতো জিনিসপত্র কিনেছেন, খাচ্ছেন।
সেখানে আসা চাকলেশ্বর গ্রামের হাবেল মৃধা, গোড়াইল গ্রামের শামীম আল মামুন ও লিয়াকত আলীসহ অনেকে জানান, আগে মির্জাপুর উপজেলা সদরের দুটি সিনেমা হলসহ উপজেলার পাকুল্যাতে দুটি, জামুর্কীতে একটি ও হাঁটুভাঙাতে একটি সিনেমা হল ছিল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সিনেমা হলগুলোয় দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় থাকত। বিশেষ করে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতেন না, তারা ভিড় করতেন সিনেমা হলে। তাদের কারণে টিকিট পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত।
এখন স্যাটেলাইট চ্যানেলের ভিড়ে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিনোদনের ব্যবস্থাও হারিয়ে গেছে। মানুষ একটু আনন্দ পাওয়ার আশায় রেলস্টেশনের পাশে ভিড় করেছেন।
বিকেলের দিকে অনেকে ভিড় করেছেন আলহাজ একাব্বর হোসেন সেতুতে। আবার কেউ বংশাই ও লৌহজং নদীর পাড়ে।
মেলায় খেলনা বিক্রি করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদের দিনে আমাগো আয় অইতাছে। মানুষ মজাও পাইতাছে।
ঝালমুড়ি বিক্রি করতে আসা গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, অন্যদিনের চেয়ে ঈদের দুইতিন দিন আমাগো বিক্রি ভালো হয়। মানুষ আনন্দ করে ঝালমুড়ি খায়।
রেলস্টেশনের অদূরে পশ্চিম দিকে হাঁটতেই চোখে পড়ল তরুণ তরুণীদের আড্ডা আর মোবাইল ফেনে সেলফি তোলা। পড়ন্ত বিকেলে তারা বেশ আনন্দ করছেন।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় নির্মিত ফ্লাইওভারে ঈদ উপলক্ষে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় দেখা গেছে।
ঢাকা থোক ঈদ করতে আসা মির্জাপুর বাজারের বাসিন্দা জাহিদুল আলম বিল্পব বলেন, ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে ঘোরার মত রেলস্টেশন, সেতু এবং এই ফ্লাইওভার ভালো জায়গা।
অপরদিকে ঢাক-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পুষ্টকামুরী চরপাড়া নামক স্থানে বন্যার পানি উঠায় ওই জায়গাটি আরেক বিনোদন কেন্দ্র তৈরি হয়ে হয়েছে। পরন্ত বিকেলে পানির স্রোতধারায় একটু নির্মল বাতাসের পরশ নিতে ওই স্থানটি বড় ভূমিকা রাখছে। ঈদ উপলক্ষে সেখানে মানুষের ভিড় জমছে প্রতিদিন।
এছাড়াও উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের দেউলীপাড়া ব্রিজ, আজগানা খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ, বহুরিয়া ইউনিয়নের শিল্পপতি রুরুল ইসলাম সেতুতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গ্রামীণ নৌকাবইচের মাধ্যমেও বিনোদনপ্রেমী মানুষেরা আনন্দ করছে বলে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঈদ উপজেলার গত তিনদিন ধরেই গোড়াইল, গাড়াইল, বটতলা, ত্রিমোহন, পুস্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইড়, বাওয়ার কুমারজানী, চাকলেশ্বর, দুল্যামনসুরসহ আশপাশের কমপক্ষে ১৫টি গ্রামের মানুষের মিলনমেলা বসেছিল রেলস্টেশন, বংশাই ও লৌহজং নদের পাড়ে এবং ধেরুয়া ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন সেতুর ওপর।
মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে বলেন, খুব শিগগির বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে মির্জাপুর পৌর এলাকার ভেতর দিয়ে প্রবহমান বংশাই ও লৌহজং নদীর সংযোগ খালটির (বারখাল) দুই পাশ সংস্কার করা হবে। সেখানে বিনোদনসামগ্রী রাখা হবে। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হবে গাছপালা। এতে বিনোদনপ্রিয় মির্জাপুরবাসীর বিনোদনের খোরাক কিছুটা হলেও মিটবে।