মনুষ্য শরীরে যদি কোনো বাজে দিক থাকে সেটি দুর্গন্ধ! বিব্রতকর ব্যাপারটি পরিহার করতে পারে এমন সাধ্য কার। যত দামি সুগন্ধী বা বডি স্প্রে’ই ব্যবহার করা হোক, নির্দিষ্ট সময় পর আবার সতেজ উৎকট সেই গন্ধ!
তবে এবার মনে হয় শারীরিক দুর্গন্ধের একটা সুরাহা হতে যাচ্ছে। গবেষণা করতে করতে এর মূল খুঁজে পেয়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের শরীরে দুর্গন্ধের মূল কারণ নাকি ‘বিরল’ এক এনজাইম।
কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই এনজাইম শনাক্তে সক্ষম হয়েছেন প্রসাধন সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের একদল বিজ্ঞানী। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বডি অডর’ তথা ‘বিও এনজাইম’।
নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া এই এনজাইমের বাহক। এরাই মানুষের বগলে দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী। কিভাবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া ‘বিও এনজাইম’ তৈরি করে মানুষের শরীরে দুর্গন্ধ ছড়ায় গবেষণায় সেটাও দেখা গেছে।
সায়েন্টিফিক রিপোর্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিও এনজাইমের মতিগতি জানতে পারায় ব্যাকটেরিয়াগুলো ঠিক কখন দুর্গন্ধের অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি করে সেটা শনাক্ত করা গেছে।
এই গবেষণার ফলে শরীরে দুর্গন্ধ রোধের নতুন পথ উন্মোচন হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। উৎসস্থলেই কিভাবে ‘বিও এনজাইম’ রোধ করা যায় সেই উপায়ও বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই গবেষণা দলের সদস্য গর্ডন জেমস বলেছেন, “গবেষণাটি সত্যিকার অর্থেই চোখ খুলে দেওয়ার মতো ছিল। দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী এনজাইম বগলের কেবল কিছু সংখ্যক ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই থাকে বিষয়টি জানতে পারাটা ছিল দারুণ।”
শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ে এর আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, দুর্গন্ধের পেছনে মূল কারণ মানুষের বগলে কিছু ব্যাকটেরিয়ার বসবাস। এই গবেষণায় দেখানো হলো, সব ব্যাকটেরিয়া নয়, কেবল বিও এনজাইমধারী ব্যাকটেরিয়া দুর্গন্ধ সৃষ্টির মূল কারিগর।