স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হলেন মাইক্রো চালক বেলাল

পরকীয়ার বলি হলেন মাইক্রোবাস চালক স্বামী বেলাল হোসেন (২৭)। হত্যার অভিযোগে নববধূ স্ত্রী লাবণী আক্তারকে (২১) আটকের ৩ দিন পর তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তারই দুলাভাই আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আদিতমারী থানা-পুলিশ।

সোমবার রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

নববধূ লাবণী আক্তার জেলা সদরের বড়বাড়ি ইউনিয়নের বৈরাগিকামার গ্রামের বাসিন্দা। আর নিহত বেলাল সদর উপজেলার হাড়ীভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। পেশায় বেলাল মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের গত ২৪ জুন লাবণী আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় শ্রমিক নেতা বেলাল হোসেনের। বিয়ের এক মাস না পেরুতেই গত ২৫ জুলাই বেলাল নিখোঁজ হন।

এরপর ২৭ জুলাই আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে বেলালের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা-পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ নিহত মাইক্রোবাস চালক বেলাল হোসেনের স্ত্রী লাবণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তারই দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি লাবণীর দুলাভাই আলমগীর হোসেনকে রবিবার রাতে সদর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

লাবণী স্বীকার করেন, বিয়ের আগে থেকেই তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক ছিল। বেলালের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ায় দুলাভাই আলমগীর হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। গ্রেপ্তার আলমগীরকে নিয়ে রবিবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলের অদূরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি-না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা (বিপিএম, পিপিএম)সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।