ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির অভিযোগে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের পুনর্নিয়োগের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান থাকায় তার পুনর্নিয়োগের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সোমবার এনসিসি ব্যাংকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়টি জানানো হয়।
কর ফাঁকি ও সঞ্চয়পত্রে সীমার বেশি বিনিয়োগ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানে উঠে আসে। এরপরই তার তদন্তে নামে দুদক।
এনসিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পর্ষদ মোসলেহ উদ্দিনকে এমডি হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সম্মতি দেয়নি। অবশ্য উনার মেয়াদও ইতিমধ্যে শেষ হয়ে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে মোসলেহ উদ্দিন ও তার স্ত্রীর নামে পাঁচটি ব্যাংক, দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও চারটি ব্রোকারেজ হাউজে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য পায় বিএফআইইউ। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ছাড়াও পরামর্শক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার থেকে টাকা জমা হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের এমডির ব্যক্তিগত হিসাবে।
বিএফআইইউর তদন্তকারীরা মনে করছেন, এনসিসি ব্যাংকের এমডি পদে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে মোসলেহ উদ্দিন ওই ‘অবৈধ’ অর্থের মালিক হয়েছেন। এরপর তার আয়ের উৎস ও সম্পদের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুদকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে গত বছরের আগস্টে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মোসলেহ উদ্দিনের ৮ কোটি টাকা জব্দ করে দুদক।
এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলেও আদালতের আদেশের কারণে এগোতে পারেনি। দুদকের তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই গত মাসে এনসিসি ব্যাংকের এমডির পুনর্নিয়োগের বিষয়ে আবেদন আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তা পুনর্বিবেচনার জন্য এনসিসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে আবারও আবেদন করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, দুদকের তদন্তে তার কোনো দুর্নীতি ধরা না পড়লে তিনি আবার ব্যাংকে ফিরতে পারবেন। তখন কোনো আপত্তি থাকবে না। ইতিমধ্যেই নতুন এমডি খোঁজা শুরু করেছে এনসিসি ব্যাংক পর্ষদ। ডিএমডি খন্দকার নাইমুল কবিরকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।