ঈদুল আজহার তিন দিনের সরকারি ছুটিতেও স্বাভাবিক ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। এ সময় ডেলিভারি কম হলেও কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে পুরোদমে। বন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে বিভিন্ন সময় ঈদের ছুটিতে বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হলেও এবার তা ছিল না।
বন্দর সূত্র জানায়, এবার ছুটিতে কার্যক্রম চালু রাখতে আগেই ব্যাংক, কাস্টম হাউজ, অফডক, শিপিং এজেন্ট ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয় তারা। ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ছিল ঈদের ছুটি। এর মধ্যেও জাহাজ থেকে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, শিফটিং, ডেলিভারি সবকিছুই ছিল চলমান। এ তিন দিনে আমদানি ও রপ্তানি মিলে ১৭ হাজার ৫৩৪ টিইইউএস (টুয়েন্টি ফিট ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে সবকিছু বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি চালু ছিল বন্দর। শুধু ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এর বাইরে বাকি সময়টুকু কনটেইনার ওঠানামাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটির মধ্যে কাজ করেছেন। ঈদের বন্ধে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারি নিতে আমদানিকারকদেরও চিঠি দিয়ে আগে জানিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় ঈদের ছুটিতে বন্দরে কনটেইনার জট দেখা দিলেও এবার তা হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঈদের আগের দিন ৩১ জুলাই আমদানি ও রপ্তানি মিলে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় ৯ হাজার ৩৬২ টিইইউএস। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮১ টিইইউএস আমদানি এবং ৫ হাজার ২৮১ টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার। ঈদের দিন কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৩ টিইইউএস। এর মধ্যে আমদানি পণ্যের কনটেইনার ছিল ১ হাজার ৫৪২ টিইইউএস ও ২ হাজার ৩১১ টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার। ঈদের পরের দিন মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় ৪ হাজার ৩১৯ টিইইউএস। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮২ টিইইউএস আমদানি ও ১ হাজার ৮৩৭ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার। এছাড়াও ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর গত দুদিনে মোট ১৪ হাজার ৬৮৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪৪৫ টিইইউএস এবং ৪ আগস্ট ৮ হাজার ২৪১ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে।
তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ডেলিভারির পরিমাণ ছিল একেবারে কম। ঈদের আগের দিন ৩০২ টিইইউএস এবং ঈদের পরের দিন ৬০৫ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ঈদের দিন কোনো কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। ঈদের ছুটি শেষে ডেলিভারি কিছুটা বাড়ছে। সোমবার বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে ১ হাজার ১৯ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে জানান, ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস কনটেইনারের ধারণক্ষমতার বিপরীতে মঙ্গলবার সেখানে ছিল ৩৬ হাজার ৭২৪ টিইইউএস কনটেইনার।
বন্দরে গতকাল মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ৬৩। এর মধ্যে বহির্নোঙরে ৩২টি ও জেটিতে ১৫টি জাহাজ থেকে কনটেইনার ও কার্গো খালাসের কাজ চলছিল। এর বাইরে বহির্নোঙরে নয়টি কনটেইনারবাহী জাহাজ, দুটি সাধারণ পণ্যবাহী ও একটি সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল।