আকস্মিক ঘোষণা দিয়ে বন্ধ রাখা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই চা বাগান খুলে দেওয়া নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ২৯ জুলাই প্রথম দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে দ্বিতীয় দফা বৈঠক শুরু হয়।
টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। বিতর্কিত ব্যবস্থাপককে অপসারণের দাবিতে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে রাত পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ধলই চা বাগানের ৬ শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন।
আগামী এক সপ্তাহ পর আবারও বৈঠকের আগ পর্যন্ত ধলই চা বাগান বন্ধ থাকবে। চা বাগান বন্ধ থাকায় প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক পাবেন না মজুরি ও রেশন।
মঙ্গলবার বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টার বৈঠকে ধলই চা বাগান শ্রমিকদের দাবি ছিল বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে অপসারণ করে অবিলম্বে চা বাগান খুলে দিতে।
অন্যদিকে ধলই চা বাগান কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি আগে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে ধলই চা বাগানে প্রবেশ করিয়ে তার দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। তারপর চা বাগান খোলা হবে।
বৈঠকে কোন সমাধান না হওয়ায় ধলই চা বাগান থেকে আসা নারী-পুরুষ সমন্বয়ে ৬ শতাধিক চা শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন চত্বরের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ ধলই চা বাগানের চা শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত চার পক্ষীয় বৈঠকে ধলই চা বাগান কোম্পানির প্রতিনিধি এজিএম খালেদ খানসহ কর্মকর্তা ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে ধলই চা বাগানে প্রবেশ করাতে অনড়। তারপর চা বাগান খুলে দিতে তারা রাজি।
অন্যদিকে ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা কোনভাবেই ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে ধলই চা বাগানে প্রবেশ করাতে রাজি নন। দুই পক্ষই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় দীর্ঘ সময় নিয়ে ধলই চা বাগান খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি।
আগামী শনিবার অথবা রবিবার পরবর্তী বৈঠক হবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান।
অন্যদিকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা বলেন, চা বাগান মালিক পক্ষের কট্টর মনোভাবের কারণে এ সমস্যার সমাধান হয়নি। ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা আরও এক সপ্তাহ পাবে না মজুরি ও রেশন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলা সদরে আগত ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে শেষমেষ পুলিশ ব্যবহার করে তাদের ট্রাকে তুলে ধলই চা বাগানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।