এবারের কুরবানির মৌসুমে চট্টগ্রামের আড়তদাররা এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। চামড়া কেনার মতো ট্যানারি চট্টগ্রামে না থাকায় ঢাকার ট্যনারি মালিকদের অপেক্ষায় আছেন তারা।
আড়তদাররা জানান, এক সময় চট্টগ্রামের ২২টি ট্যানারি থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় সবগুলোই। এখন রিফ লেদার নামে একটি ট্যানারি রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের চামড়া কেনার সক্ষমতা সীমিত। এতে প্রতি বছর সংগৃহীত চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় আড়তদারদের। চামড়া বিক্রির জন্য পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হয় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের ওপর। এদের ওপর নির্ভর করে চামড়ার দাম পাওয়ার বিষয়টি।
জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ১১২ সদস্য ও সমিতির বাইরে প্রায় ১৫০ ব্যবসায়ী প্রতি বছর চট্টগ্রাম মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুরবানির চামড়া কিনে থাকেন। চলতি মৌসুমে সাড়ে চার লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে কুরবানি কম হওয়ায় এবার চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ ছিল গত বছরের তুলনায় কম। সমিতির কর্মকর্তারা জানান, কুরবানির দিন রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তে মোট ১ লাখ ১২ হাজার পিস কাঁচা চামড়া আসে। এসব চামড়া লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এছাড়া নগরীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে লবণ দিয়ে রাখা হয়েছে আরও দ্ইু লাখ ৪৪ হাজার পিস চামড়া।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের ঈদে সাড়ে চার লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় আরও কিছু চামড়া রয়েছে। নগরীর কালুরঘাট, আতুরার ডিপো, হালিশহর, বিবিরহাটসহ নগরী ও নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকার আড়তদাররা চামড়াগুলো লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ চামড়া কেনার মতো ট্যানারি এখানে নেই। একসময় অনেকগুলো ট্যানারি থাকলেও এখন রয়েছে মাত্র একটি। তারা এবার মাত্র ৫০ হাজার পিস চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে তারা চামড়া কেনা শুরু করতে পারে। অন্যদিকে খুলনার সুপার ট্যানারিও কিছু চামড়া কিনবে। অবশিষ্ট চামড়া বিক্রির জন্য ঢাকার ট্যানারি মালিকদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি, সপ্তাহ দুয়েক পর তারা চামড়া কেনার জন্য চট্টগ্রাম আসবেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, এবার অনেক আড়তদার সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে অনীহা দেখিয়েছেন। এতে কেনা দরের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করে তাদের লোকসানে পড়তে হয়েছে। আবার কেউ কেউ কাক্সিক্ষত দরে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।