প্রথম ধাক্কা মোটামুটি সামলে নিলেও ইউরোপে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। সংক্রমণের হার বেড়ে চলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবার কড়া বিধিনিয়ম চালু করা হচ্ছে। মাস্ক ও কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত কড়াকড়িও বাড়ছে।
অনেকে মনে করছেন, দ্বিতীয় পর্যায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালের পর আবহাওয়া শীতল হলে এই মহামারী আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
করোনায় মৃত্যুর হিসাবে ইউরোপ এতকাল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকার শীর্ষে ছিল। ২ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ এই মহাদেশে করোনার বলি হয়েছে। তবে দুদিন আগেই মঙ্গলবার লাতিন আমেরিকা তালিকার শীর্ষে চলে গেছে।
নতুন করে সংক্রমণের হার বাড়ায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ আরও কড়া বিধিনিয়ম চালু করেছে। গ্রিসে ‘ওয়েক আপ উইক’ কর্মসূচির আওতায় সরকার জনসাধারণকে বিপদ সম্পর্কে আরও সচেতন করার উদ্যোগ নিচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিদিন নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সে দেশের সরকার। ব্রিটেনেও স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কড়াকড়ি বাড়ছে। যেমন স্কটল্যান্ডের অ্যাবার্ডিন শহরে সব রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফ্রান্সের একাধিক শহরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ চলছে। বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প প্রদেশে সংক্রমণের হার বেড়ে চলায় জার্মানি সেই অঞ্চলকে ‘কালো তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অর্থাৎ করোনাভাইরাস পরীক্ষার নেতিবাচক ফল দেখাতে না পারলে সেখান থেকে কেউ জার্মানিতে প্রবেশ করলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে হবে।
দক্ষিণ আমেরিকায়ও করোনা মহামারী মারাত্মক আকার ধারণ করছে; বিশেষ করে ব্রাজিলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। প্রায় ২৯ লাখ মানুষ সে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৯৭ হাজারের বেশি। ফলে গোটা অঞ্চলে মৃতের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক ব্রাজিলেই নথিভুক্ত হয়েছে। পেরুতেও সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে চলেছে।