আগামী সপ্তাহ থেকে ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতি দুভাবেই চলবে হাইকোর্টের বিচার কার্যক্রম। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতি অংশ নেন। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা এ সভা চলে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সভায় হাইকোর্টের অন্তত ৪০ জন বিচারপতি শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর যারা শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনায় আগ্রহী নন, তাদের ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয় ফুলকোর্ট সভায়। এ ছাড়া সভায় চলতি বছর আগামী কয়েক মাসে উচ্চ আদালতের সব অবকাশ ছুটি বাতিলের পক্ষে মত দেন বেশির ভাগ বিচারপতি। তবে এ বিষয়ে ফুলকোর্ট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চালু করতে গত ৮ জুলাই প্রধান বিচারপতির কাছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে আবেদন করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সেখানে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনাও ছিল। এরপর ২৬ জুলাই ওই চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আবারও প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানায় সমিতি। এরই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে ৬ আগস্ট (গতকাল) ফুলকোর্ট সভা আহ্বানের কথা জানানো হয়।
করোনাভাইরাসজনিত সংকটময় পরিস্থিতির কারণে উচ্চ ও বিচারিক আদালতে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে নিয়মিত বিচারকাজ বন্ধ ছিল। পরে ১১ মে থেকে বিচারিক আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুধু হাজতি আসামিদের জামিন শুনানি ও উচ্চ আদালতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মামলার শুনানি শুরু হয়। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় অধস্তন বিভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ ও নালিশি মামলাসহ দেওয়ানি ও উত্তরাধিকার মামলার আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জীবিকার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে আদালত খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত বুধবার থেকে বিচারিক আদালতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।