এপ্রিল-জুন প্রান্তিক

বিডায় বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৬৭.১১%

করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে দেশের বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও। আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বিনিয়োগ প্রস্তাব। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৬৭ দশমিক ১১ শতাংশ। গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিডা।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিডায় নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটগুলোয় প্রায় ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা প্রস্তাবিত বিনিয়োগ হয়, যা আগের প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ছিল ১৭২ কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ কমেছে ১১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা । বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমেছে বিডায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের সংখ্যা। আগের প্রান্তিকে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯১ থাকলেও এপ্রিল-জুন সময়ে ২৪৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬টিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিবন্ধিত ৩৮ শিল্প ইউনিটে সম্পূর্ণ স্থানীয় বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩৩২ দশমিক ৮৫৭ মিলিয়ন টাকা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৭৭ হাজার ২৭৫ দশমিক ২৮৭ মিলিয়ন টাকা কম। ওই প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬০৮ দশমিক ১৪৪ মিলিয়ন টাকা। সে অনুযায়ী গত প্রান্তিকে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের সংখ্যা ও স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে যথাক্রমে ২০১টি ও ৮৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে স্থানীয় বিনিয়োগ কমেছে ৮৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। 

একই সময় বিদেশি বিনিয়োগ সংবলিত ৮ নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৫২৪ দশমিক ৯৫৪ মিলিয়ন টাকা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৩৮ হাজার ৭০২ দশমিক ০১৬ মিলিয়ন টাকা কম। ওই সময় নিবন্ধিত ৫২ শিল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ২০৪ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ সংবলিত ৮ প্রতিষ্ঠানের ৫টি শতভাগ বিদেশি ও ৩টি যৌথ বিনিয়োগর জন্য নিবন্ধিত। সে অনুযায়ী এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে যৌথ ও বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের সংখ্যা ৪৪টি কমেছে। আর বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৫৩৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।

গত প্রান্তিকে স্থানীয় ও বৈদেশিক সব মিলিয়ে বিবিধ শিল্প খাতে সর্বাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা মোট বিনিয়োগের ৭৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এছাড়া কৃষি খাতে ৬ দশমিক ৮৯, সেবা খাতে ৫ দশমিক ৯৬, খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাতে ৫ দশমিক ৭২, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৯৭, প্রকৌশল খাতে দশমিক ১৫ ও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং খাতে দশমিক ০৭ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।