অস্বাভাবিক জোয়ারে পটুয়াখালী শহরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীতে গত সোমবার সকাল থেকে থেমে থেমে হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার সব নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল ৪-৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পটুয়াখালী শহর রক্ষা বাঁধের সøুইস গেটগুলো বিকল হওয়ায়  জোয়ারের পানি শহরে প্রবেশ করে পোস্ট অফিস রোড, নিউ মার্কেট, স্বনির্ভর রোড ও কাঠপট্টি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বেড়িবাঁধ না থাকায় দু’দফা জোয়ারের ৪ ফুট উচ্চতর পানিতে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের মোল্লা গ্রাম, বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত চরআন্ডা ও কলাপাড়ার লালুয়াসহ ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দু’দফা অস্বাভাবিক জোয়ারে গলাচিপায় ফেরি চলাচল তিন ঘণ্টা বন্ধ হয়ে দুই পাড়ে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। 

কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র বেশ উত্তাল। পাঁচ শতাধিক ইলিশ শিকারি ট্রলার এখনো গভীর সাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে মৌসুমি বায়ুচাপ সক্রিয় থাকায় পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ফের প্লাবিত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন। জোয়ারে উপকূলবর্তী এই ইউনিয়নের ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিলীন হওয়া বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের তিনটি ওয়ার্ডের অন্তত এক হাজার পরিবার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে এসব পরিবারের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, রায়পুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে গত কয়েক দিন ধরে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরের চুলায় আগুন জ¦লছে না। নলকূপও পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষ ও পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে থাকায় এসব এলাকার যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি মানুষ সাঁতরে বা নৌকা নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ইউনিয়নের বার আউলিয়া অংশের বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুত শেষ না করায় কয়েকটি গ্রাম জোয়ার-ভাটার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসব গ্রাম জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যায় আর ভাটার সময় কাদামাটিতে সয়লাব হয়। এখানকার বাসিন্দারা দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম পওর-১-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম দাশ বলেন, বর্ষার কারণে বাঁধের কাজ শেষ করা যায়নি।