বাড়িতে বসে সাজা ভোগ করেছেন এক আসামি। আবার উপহারও পেয়েছেন। আশ্চর্য হলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছন নগরে।
মো. নূর উদ্দিন ওরফে সেলিম নামেও ওই ব্যক্তির সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গাছের চারা উপহার দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল। বন্দী জীবন থেকে মুক্তি এবং উপহার পেয়ে খুশি সেলিমও।
জানা গেছে, মাদক মামলায় এক বছরের সাজা হয়েছিল সেলিমের। কিন্তু আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত সাপেক্ষে নিজ বাড়িতে থেকে সাজা ভোগের আদেশ দেয়। বৃহস্পতিবার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। শর্ত পালন করে সাজা ভোগ করায় আদালত সেলিমের ওপর খুশি হয় এবং জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রোপণের জন্য তাকে তিনটি গাছের চারা উপহার দেয়া হয়।
জানা গেছে, নূর উদ্দিনকে মাদকের একটি মামলায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। কিন্তু তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে থেকে সাজা ভোগের আদেশ দেন বিচারক। পুরো এক বছর সব নিয়ম ও শর্ত মেনে চলেন নূর উদ্দিন। তার সাজার মেয়াদ শেষ হয় এ বছরের ১০ এপ্রিল। করোনার কারণে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রবেশন কর্মকর্তা ভার্চুয়াল আদালতে নূর উদ্দিনের মুক্তির আবেদন করেন। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেন বিচারক। একই সঙ্গে প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনটি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উপহার দেন।
নূর উদ্দিন ওরফে সেলিম বলেন, আমি গরিব মানুষ। বিদ্যুতের কাজকাম করে সংসার চালাই। আমি জেলে গেলে পরিবারের অন্যদের না খেয়ে থাকতে হতো। আদালতের দয়ায় জেল থেকে রক্ষা পেয়েছি। এই এক বছর আদালতের প্রতিটি আদেশ পালন করেছি। আমি আর কখনো মাদক গ্রহণ বা কোনো ধরনের অপরাধ করব না।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, বাড়িতে থেকে সাজা খাটার বিষয়ে নূর উদ্দিনকে শর্ত দেয়া হয় তিনি এক বছর জেলার বাইরে যেতে পারবেন না। পরিবার, প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকবেন। কোনো অপরাধে জড়াবেন না। নিয়মিত প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। তিনি সব শর্ত মেনেছেন। তাই আদালত তাকে চূড়ান্তভাবে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। তার পরিবার, প্রতিবেশী সবাই বলেছেন, তিনি সংশোধন হয়েছেন। তাই আদালত তাকে চূড়ান্তভাবে মুক্ত করে দিয়েছেন।