পিনার গুলতেকিন ও সাদা-কালো ছবির চ্যালেঞ্জ

রঙিন শাড়ি, বাহারি পাঞ্জাবি কিংবা বছর দশেক আগের ছবি এমন নানা বিষয়ে আজকাল প্রায়ই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। চ্যালেঞ্জ চলছে স্বরচিত কবিতা, গল্প, গানেরও। তবে দুই সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘সাদা-কালো ছবির চ্যালেঞ্জ’। এই চ্যালেঞ্জের আড়ালে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী ঘটনা। তুর্কি নারী পিনার গুলতেকিনের রক্তে রঞ্জিত সেই গল্প লিখেছেন পরাগ মাঝি

সাদা-কালো ছবি

গত ৩ আগস্ট ফেইসবুকে নিজের ওয়ালে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক ফাহমিদা আক্তার কেয়া। সবগুলো ছবিই সাদা-কালো। পরনের শাড়ি কিংবা কপালের বড় টিপ দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলোর আসল রং কী! ছবিতে রং লুকানোর এই চ্যালেঞ্জ তাকে ছুড়ে দিয়েছিলেন সানজিদা সাঞ্জু নামে তার এক বন্ধু। তাই নিজের ছবি পোস্ট করে আরও তিনজন বন্ধুকে এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কেয়া।

বাংলাদেশে ধীরে ধীরে এই চ্যালেঞ্জ জনপ্রিয় হতে শুরু করলেও গত এক সপ্তাহে বিশ্বে ফেইসবুক, টুইটার, বিশেষ করে ইন্সটাগ্রাম ছেয়ে গেছে ব্যবহারকারী নারীদের সাদা-কালো ছবিতে। এ তালিকায় সাধারণ নারী থেকে শুরু করে রয়েছেন জেনিফার লোপেজ, ক্লয়ি কারদেশিয়ান, ভেনেসা ব্রায়ান্ট, সিন্ডি ক্র্যাফোর্ড এবং হিলারি ডাফের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারাও। নিজের ছবি পোস্ট করে পরিচিত নারীদের ‘সাদা-কালো ছবির চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ভেনেসা ব্রায়ান্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করে পপতারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ লিখেছেন, ‘নারীরা যখন একে অপরকে সমর্থন করে, তখন অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড ঘটে!’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একে অপরকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সাদা-কালো ছবি পোস্ট করার প্রবণতা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তবে দুই সপ্তাহ আগে এই প্রবণতায় ঘি ঢেলে দিয়েছেন তুরস্কের নারীরা। তুর্কি নারী পিনার গুলতেকিনকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং সুবিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তারা।

পিনার গুলতেকিন

২৭ বছর বয়সী পিনার গুলতেকিন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক তুর্কি শিক্ষার্থী। পড়াশোনার কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মুগলা প্রদেশের উলা শহরে বাস করেছিলেন তিনি। উলা শহরে বাস করলেও পার্শ্ববর্তী আকায়াকা শহরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এ শহরে তার পরিবারের বাকি সদস্যরাও থাকেন। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে আকায়কা শহরে ছিলেন তিনি।

ছুটি কাটিয়ে গত ১৬ জুলাই আকায়কা থেকে উলা শহরের উদ্দেশে রওনা হন গুলতেকিন। উলা শহরের একটি ফ্ল্যাটে একা একাই বাস করতেন তিনি। বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নিরাপদে নিজের ফ্ল্যাটে পৌঁছেছেন কি না তা জানতে পিনারকে ফোন দিয়েছিলেন তার ছোট বোন সিবেল গুলতেকিন। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ওঠেন পিনারের পরিবারের সদস্যরা। এভাবে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ফোন বন্ধ পাওয়ার পর পুলিশের দ্বারস্থ হন পিনারের মা সেফিকা গুলতেকিন। পরে পুলিশও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পিনারের অনুসন্ধান শুরু করে। উলা শহরে তার ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর ২১ জুলাই মুগলা প্রদেশে মেন্টেস জেলা শহরের আয়েগিন নামে একটি এলাকার ঘন গহিন জঙ্গল থেকে পিনারের ক্ষতবিক্ষত ও পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়।

অবশেষে লাশের খোঁজ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পিনার গুলতেকিনকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল আকায়াকা শহরের একটি কবরস্থান ও মেন্টেস জেলা শহরের একটি শপিং মলে। পরে ওই এলাকাগুলোতে থাকা সবগুলো সিসি ক্যামেরা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে পুলিশ। এসব ক্যামেরায় পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার আগে মেন্টেসের একটি শপিং মলে এক ব্যক্তির সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বসেছিলেন পিনার। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গেই শপিং মল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা হয়। তিনি আর কেউ নন, পিনারের সাবেক প্রেমিক জামাল মতিন আবচি। তাই পিনারের নিখোঁজ রহস্যে একমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

আকায়াকা শহরে একটি বারে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন আবচি। পিনারের সঙ্গে কিছুদিন প্রেম করলেও সেই সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর পড়াশোনায় মন দেন পিনার আর আবচি বিয়ে করেন অন্য একজন নারীকে। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের বাবা।

আবচিকে জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই পিনারের ব্যাপারে কোনো কিছু জানেন না বলে পুলিশকে জানান তিনি। এও জানান, পিনারের সঙ্গে তার বহু দিন দেখা হয় না। পরে তাকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখালে সব খুলে বলতে বাধ্য হন। পুলিশকে নিয়ে যান সেই জঙ্গলে, যেখানে পিনারকে হত্যা করে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

নির্মম হত্যাকান্ড

৩২ বছরের আবচি এক সন্তানের বাবা হলেও পুরনো প্রেমের কথা ভুলতে পারছিলেন না। অবৈধ পন্থায় সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পিনারকে চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্যই আবচির সঙ্গে দেখা করেছিলেন পিনার। প্রথমে আবচি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেখানে তাদের দেখা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য তারা একসঙ্গে আয়েগিন এলাকায় থাকা আবচির একটি বাড়িতেও যান। সেখানে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য পিনারকে জোরাজুরি করতে থাকেন আবচি। কিন্তু পিনার তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এ ধরনের সম্পর্ক কখনোই সম্ভব নয়। প্রত্যাখ্যাত হয়ে পিনারকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করেন আবচি। শেষ পর্যন্ত তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।

স্বীকারোক্তিতে পিনারকে হত্যার পর কীভাবে তার লাশ লুকিয়ে ফেলা হয়েছে তারও বর্ণনা দেন আবচি। প্রথমে লাশটিকে একটি তেলের ড্রামে ঢুকিয়ে দেন। বাড়ির ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর কাজে এই ড্রামটি ব্যবহৃত হতো। একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে পুলিশ দেখতে পেয়েছিল স্থানীয় একটি পেট্রল পাম্প থেকে কয়েক ক্যান তেল কিনছেন আবচি। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই তেল দিয়েই লাশটিকে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেন তিনি। ড্রামের ভেতরে লাশটিকে পোড়ানোর সময় প্রতিবেশী এক বয়স্ক ব্যক্তি আবচিকে অযথা আগুন না জ্বালানোর পরামর্শ দেন। কারণ সেদিন গরম পড়েছিল খুব। ড্রামের ভেতরে লাশের কথা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি ওই বৃদ্ধ।

আগুনে বিকৃত হয়ে যায় পিনারের লাশ। পরে লাশসহ ড্রামটি টেনে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যান আবচি। সেখানে গিয়েও তিনি প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা করেন। লাশটিকে ভেতরে রেখে ড্রামের ভেতর সিমেন্ট-বালির ঢালাই প্রবেশ করিয়ে মুখটি বন্ধ করে দেন এবং জঙ্গল থেকে ফিরে এসে দরজায় পুলিশ টোকা দেওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন।

ক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক

এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ফাঁস হওয়ার পর পিনার গুলতেকিনের পরিবার তো বটেই, পুরো তুরস্ক শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। দেশটির অসংখ্য পপতারকা, খেলোয়াড়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। সুবিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন তুর্কি নারীরা। তারা রাজধানী ইস্তাম্বুল থেকে শুরু করে তুরস্কের বড় শহরগুলোতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু করেন। এ অবস্থায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পিনার গুলতেকিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হবে বলে আশ্বাস দেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে পিনার গুলতেকিনের হত্যাকারী সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মামলার ওপর নজর রাখছি।’ কিন্তু এমন আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে পারছেন না তুর্কি নারীরা। কারণ দেশটিতে নারী নির্যাতনের চিত্রটি ভয়াবহ। বর্তমানে তুরস্কে প্রতিদিন গড়ে একজনের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন।

‘উই উইল স্টপ ফেমিসাইড প্ল্যাটফর্ম’ নামে নারী নির্যাতনবিরোধী একটি তুর্কি সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তুরস্কে নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। ২০১৩ সালে দেশটিতে পুরুষের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৩৪ জন নারী প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরের বছর ২৯৪ জন নারীকে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৩০৩ জন নারী। এভাবে ২০১৬ সালে ৩২৮ জন, ২০১৭ সালে ৪০৯ জন এবং ২০১৮ সালে ৪৪০ জন তুর্কি নারী প্রাণ হারান। সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৪ জন।

দেখা যাচ্ছে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তুরস্কে নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে বেড়ে। অথচ তুর্কি নারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দেশটিতে ২০১২ সালে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। নারী অধিকারকর্মীদের দাবি, তুর্কি নারীদের সুরক্ষা আইনের প্রতি অবহেলা ও যথাযথভাবে কার্যকর না করার ফলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বর্তমানে তুরস্কে ‘কাদেস’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু রয়েছে। সরকারি এই অ্যাপে নিজ গৃহ বা অন্য কোথাও নির্যাতিত হলে অভিযোগ করেন নারীরা। গত দুই বছরে অ্যাপটিতে এমন অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০১টি।

গত ২০ জুলাই তুরস্কের বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আক্কুস ইলগেজদি বলেন, ‘কাদেস অ্যাপে প্রতিদিন গড়ে ৩৮ জন নারী নির্যাতনের অভিযোগ করছেন। আর এই অভিযোগগুলো সেসব নারীই করতে পারছেন, যাদের হাতে স্মার্টফোন আছে।’ অর্থাৎ দেশটিতে নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যাটি যত অভিযোগ আসছে, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি।

নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ার জন্য তুর্কি নারীরা সরাসরি দেশটির সরকারকেই দোষারোপ করছেন। দোষীদের যথাযথ শাস্তি না দেওয়ার দরুন পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে। দেখা যায়, পরিবারে নির্যাত শিকার নারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীরা লঘু শাস্তি পেয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই তুরস্কের বিভিন্ন নারী সংগঠন ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতারা এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করছে। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে দাঁড়িয়ে ‘উই উইল স্টপ ফেমিসাইড’-এর প্রধান ফিদা আতাসেলিম জানান, তারা তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, যত দিন না ক্ষমতাসীন সরকার তাদের দাবি আমলে নিচ্ছে। পিনার গুলতেকিন হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে ফিদা বলেন, ‘আমরা এমন একজন নারীর ব্যানার বহন করছি, যাকে চিনি না। অনেক হয়েছে। আমরা এবার বাঁচতে চাই। সমাধান পরিষ্কার। যথাযথভাবে আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তুরস্কের পরিবার, শ্রম ও সামাজিক সেবাবিষয়ক মন্ত্রী জাহরা জামরুত বলেন, ‘আমাদের মেয়ে পিনার গুলতেকিনের নির্মম মৃত্যু আমাদের হৃদয়কে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। যথাযথ আইন অনুসরণ করে সরকার এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে।’

রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পিনার গুলতেকিন হত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তুর্কি নারীরা। পিনারের মৃত্যুকে স্মরণ করে নিজেদের ওয়ালে সাদা-কালো ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন তারা। এভাবেই দেশের সীমা পেরিয়ে সুবিচারের দাবিতে সাদা-কালো ছবিতে একাত্ম হয়েছে নারীর বৈশ্বিক সত্তা।