কুষ্টিয়ায় পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে মাছের মড়ক লেগেছে। জেলাজুড়ে মাছ মরে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেগুলো লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন মাছের খামারিরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, ভেসে ওঠা কোটি টাকার মাছ লুটপাট ঠেকাতে মৎস্য অফিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্যজীবীরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ড. মাহবুব আরও বলেন, টানা কয়েক দিনের মেঘাচ্ছন্ন গুমোট আকাশ ও ভ্যাপসা গরমে জেলার অধিকাংশ বড় বিল, বাঁওড় ও পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় শ^াসকষ্টে কয়েক শ টন মাছ ভেসে উঠে মরে যায়।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালীগঙ্গা, বাদলবাসা বাঁওড়, নান্দিনা-চাপাইগাছি, রাধানগর, কালিদাসপুর ও ডাকুয়ার মতো জলাশয়ের এ ঘটনায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ জেলে ও মৎস্যজীবীদের।
কুমারখালী উপজেলার বাদলবাসা বাঁওড়ের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে গুমোট ও ভ্যাপসা গরম চলতে থাকায় পানির নিচ থেকে মাছ ভেসে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় মানুষজনের হইচই শুনে বাঁওড়পাড়ে গিয়ে দেখি দুই পাড় থেকে শত শত মানুষ টেঁটা, ফলা, জাল-পলো দিয়ে মাছ ধরছে। বিস্তীর্ণ বাঁওড় থেকে বড় বড় কার্পজাতীয় অন্তত দেড় শ মেট্রিক টন মাছ তারা ধরে নিয়ে যায়। দুই-তিন বছর ধরে বড় হওয়া এসব মাছের সবচেয়ে ছোটটির ওজন কমপক্ষে তিন কেজি। এসব মাছের বাজারমূল্য অন্তত ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন আকমল হোসেন।
সদর উপজেলার হাতিয়া বিলের মৎস্যজীবী আনিচুর রহমান বলেন, আমার বিলের সবচেয়ে বড় সাইজের মাছগুলোই মরে গেছে। এখন পথে বসার দশা হয়ে গেছে।
কুমারখালী উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম কুমার রায় বলেন, সংবাদ পেয়ে বাঁশগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের দুজন পুলিশ সদস্য এসেছিলেন। কিন্তু তারা শত শত নারী-পুরুষকে ঠেকাতে ব্যর্থ হন।