দেশের দুর্গম অঞ্চলে ফাইবার অপটিক্যাল কেব্লের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কক্ষ বরাদ্দ দিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। চিঠি পাওয়ার পর ৭৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে কক্ষ বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ইউনিয়ন পরিষদ) মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী।
গতকাল শনিবার ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার আসে। সেখানে বলা হয়, ইন্টারনেট কানেকটিভিটি ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সংযোগের আওতায় আনার জন্য দেশের ৭৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কক্ষ বরাদ্দ প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য এইচডিডি ও ওপেন কাট পদ্ধতিতে ৫ হাজার ৫৪৪ কিলোমিটার ও এরিয়াল পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল স্থাপন করা হবে। অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল স্থাপনের সময় এলজিইডি, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা খনন ও নতুন খুঁটি স্থাপন করা প্রয়োজন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ চিঠি পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৪ আগস্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুর্গম এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পের জন্য নিজ নিজ জেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনী ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতিপূর্বে অন্তত ৩ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১ হাজার অফিসে ডাটা কানেকটিভিটি ও ১ হাজার ৬০০ অফিসে ভিপিএন/এমপিএলএস সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে। ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৭টি ইউনিয়নে নেটওয়ার্ক মনিটর ইন্টিগ্রেটেড স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের এ অংশের অগ্রগতি শেষ পর্যায়ে। ২ হাজার ৪৭৭ ইউনিয়নে যন্ত্রপাতিসহ নানা উপকরণ সরবরাহও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক্যাল কেব্লে গ্রাহকের কাছে কীভাবে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।