ব্রাজিলে মৃত্যু লাখ ছাড়াল

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো যতই মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়ান না কেন, তার দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অধিকাংশ শহরের দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ খোলার পর আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বগতিতে বাড়তে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে দেয়।

গত শনিবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজার ৯৭০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে, ওই সময়কালে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯০৫ জনের। এতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ১২ হাজার ৪১২ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৪৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

এক শতাব্দী আগের স্প্যানিশ ফ্লুর পর থেকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে লড়াই করা ব্রাজিল প্রথম নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্তের কথা জানিয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। এরপর দেশটির ৫০ হাজার লোকের প্রাণনাশে ভাইরাসটি সময় নেয় তিন মাস, কিন্তু পরবর্তী ৫০ হাজারের মৃত্যু হয় মাত্র ৫০ দিনে। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ‘করোনাভাইরাসকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি’ বলে তার সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন।

সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ও বিধিনিষেধের বিরোধী এ ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট অর্থনীতি সচল রাখতে আঞ্চলিক গভর্নর এমনকি নিজ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট নিজে ও তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

ব্রাজিলের সংক্রামক রোগ সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য ডা. জোসে দাভি উরবায়েজ বলেছেন, ‘আমাদের হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করা উচিত, কারণ এটি বিশ্বযুদ্ধের মতো শোচনীয় পরিস্থিতি; কিন্তু ব্রাজিল সমষ্টিগতভাবে অসাড়তার মধ্যে আছে।’ এখনো এই মহামারীর সঙ্গে লড়াই করার মতো ব্রাজিলের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকা নিয়ে সতর্ক করেছেন উরবায়েজ ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। দেশটির অনেক কর্মকর্তা সবকিছু পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ায় রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়ে প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নেবে বলে মনে করছেন তারা।

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট, কংগ্রেস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মহামারী মোকাবিলায় বোলসোনারোর নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। মৃত্যুর সংখ্যা লাখ ছাড়ানোয় সুপ্রিম কোর্ট তিন দিনের ও ন্যাশনাল কংগ্রেস চার দিনের শোক ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। বোলসোনারোর সঙ্গে মতবিরোধে তার মন্ত্রিসভার দুই জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী পরপর পদত্যাগ করেছেন। তারা উভয়েই চিকিৎসক ছিলেন।