রাজনৈতিক পরিচয় যে কোনো অপরাধীর আত্মরক্ষার ঢাল হতে পারে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনস্থ সরকারি বাসভবন থেকে গোপালগঞ্জ সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় শেষে ব্রিফিংয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কোনো অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি বরং প্রতিটি হত্যাকা-ের বিচারের জন্য সোচ্চার থেকেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকা-ে অভিযুক্তরা দলীয় পরিচয়েও ছাড় পায়নি। বুয়েটের আবরার, বরগুনার রিফাত শরীফ, ফেনীর নুসরাতসহ অন্যান্য ঘটনায়ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের রাজনীতিতে উদারতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকা-ের ক্ষত বুকে চেপেও তিনি গিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার বাসায় সন্তানহারা মাকে সান্ত¡না দিতে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার। জনগণের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বোঝেন বলেই যে কোনো বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বলতে চাই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান স্বাস্থ্য খাতে জেকেজি-রিজেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এবং অন্য যেসব অনিয়ম হচ্ছে সেসব হাসপাতালে অভিযান চালানোর জন্য সরকারকে আগে কেউ বলে দেয়নি। কারও পরামর্শে সরকার অভিযান পরিচালনা করেনি। শেখ হাসিনা সরকার নিজেই এই সকল অনিয়ম উদঘাটন করেছে। তার মেকানিজম দিয়ে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেননি। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
এর আগে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। সরকারি অর্থ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালনের পাশাপাশি অপচয় রোধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণে গুণগত মান অক্ষুণœ রাখতে হবে। কাজের মান ধরে রাখতে এবং সময়মতো শেষ করতে কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকি বাড়ানোর ওপর এ সময় তিনি জোর দেন।
মন্ত্রী ঈদের পর ফিরতি যাত্রায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন, সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চন্দন কুমার দে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান, গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।