স্বাস্থ্যবিধি মেনে জন্মাষ্টমী উদযাপন থাকছে না শোভাযাত্রা

করোনার সংক্রমণ রোধে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা জানিয়েছেন। এ সময় পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ মঙ্গলবার অনাদিরাদিগোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব শুধু ধর্মীয় বিধি মেনে পূজা-প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে। করোনার বিস্তার রোধে এ বছর জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন শুধু মন্দিরে পরম প্রেমময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। জন্মাষ্টমী উৎসবের খরচের অর্থ দিয়ে হতদরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে বিমল কান্তি দে বলেন, ‘চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মন্দির/দেবালয়ের প্রবেশদ্বারে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করা হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভক্ত ও পুরোহিত উভয়কেই মাস্ক-হ্যান্ডস গস্নাভস ব্যবহার করতে হবে। সবাইকে পরস্পর থেকে তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জনসমাগম করে মন্দিরের বাইরে কোনো প্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না।’

রাউজান পৌর মেয়র ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেবাশীষ পালিত বলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আমরা চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন করে আসছি। বিগত বছরগুলোর উৎসবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্রীয় ও বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে এবার সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও অনারম্ভরভাবে উৎসব পালিত হবে। জন্মাষ্টমী উৎসবের খরচের অর্থ দিয়ে এ বছর সারা দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা করোনাকালীন অসহায় মানুষদের এবং অনাথালয়ে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।