দেশে ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে নানা বিধিনিষেধ প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পেরেছে সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাড়িতে রাখতে পেরেছে। কষ্ট সহ্য করে হলেও সে সময় সবকিছুই মেনে নিয়েছিল মানুষ। তারা ভেবেছিল, কিছুদিন কষ্ট করি, যদি এটার সমাধান হয়। কিন্তু পাঁচ মাস পর করোনা পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক উন্নতি না হওয়ায়, এসব স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে এখন চরম শৈথিল্যভাব এসেছে। ধাপে ধাপে না করে সরকার একসঙ্গে সবকিছু খুলে দেওয়ায় মানুষ এখন ঘরের বাইরে চলে এসেছে। গণপরিবহন, কর্মস্থলসহ রাস্তাঘাটে চলাফেরায় মানুষকে কিছুতেই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষাসহ করোনার স্বাস্থ্যবিধির কিছুই মানানো যাচ্ছে না।
বিশেষ করে সম্প্রতি সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে করোনা নিয়ন্ত্রণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে অনেকটাই ভয় কেটে গেছে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এমন ভুল বার্তা গেছে মানুষের কাছে। এমন পরিস্থিতিকে দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য নতুন ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশের মানুষ যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটকে স্বাভাবিক সময়ের মতো ভাবে, সরকার যদি মনে করে লোকজন এসে নিজেরাই পরীক্ষা করবে, নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে, তাহলে হবে না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে সংক্রমণ আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশ সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপে ঢুকবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আসলেই কঠিন হবে।
মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে শৈথিল্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বেশ উদ্বিগ্ন সরকারও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা প্রতিদিনই স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরাও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারকে নানা ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। মানুষও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার বাড়ির বাইরে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মাঠপ্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভায় সাধারণ আলোচনা হয়েছে যে, মানুষকে অন্তত সচেতন থাকতে হবে। এর মধ্যে দেখা গেছে যে অনেক মানুষের মধ্যে সচেতনতাটা একটু কমে গেছে, সেটা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। মাঠপ্রশাসনকেও বলে দিয়েছি যে, এনফোর্সমেন্টে যেতে হবে।
সবাই যাতে মাস্ক ব্যবহার করে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও প্রচার চালানো হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, বিশেষ করে তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরও ম্যাসিভ প্রচারের জন্য বলা হয়েছে। ফিজিক্যালি মাঠে গিয়ে মাইক দিয়ে, বিলবোর্ড দিয়ে যাতে মানুষ আরেকটু সতর্ক হয়।
স্বাস্থ্যবিধি মানতে এর আগেও সরকার কয়েক দফা নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়। গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে আদেশ জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়, সব ধরনের কর্মস্থলে, বাজার-বিপণি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, গণপরিবহন, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং রাস্তায় পথচারীদেরও এখন থেকে এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারা কীভাবে এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পরিপত্রে। সেখানে ১১ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৩০ মে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সর্বসাধারণের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আরেকটি পরিপত্র জারি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জীবাণুনাশক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়া ‘বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করা হয়। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইনের আওতায় মাস্ক না পরে বের হলে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডই কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু এসব নির্দেশনা ও বিধি খুব একটা কার্যকর করতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে। এ ব্যাপারে দুই সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, শাস্তি কার্যকর করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং করোনা পরীক্ষা কমেছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকেই এ সংখ্যা কমছে।
গত মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর টানা দুই মাস সরকারি ছুটি ঘোষণার সঙ্গে বাইরের সব ধরনের কাজকর্ম ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এরপর বিধিনিষেধ শিথিল করার ধারাবাহিকতায় এখন অনেকটা আগের মতোই সবকিছু চলছে। তবে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাসহ স্বাস্থ্যবিধি যথযাথভাবে মেনে চলতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দুই মাস আগে ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর গণপরিবহনসহ একে একে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়। তখন বাংলাদেশে প্রতিদিন করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে, এখনো প্রতিদিন তিন হাজারের কমবেশি হচ্ছে এ সংখ্যা। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬০ জনে পৌঁছেছে। মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৩ হাজার ৪৩৮ জনে।
এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে নতুন করে পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সরকারকে আবার মানুষের কাছে যেতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে। বিশেষ করে কমিউনিটিকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বাস্থ্যবিধি মানার কর্মসূচি নিতে হবে। শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য সাবানসহ বেসিন স্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের আইসোলেশনে রেখে তাদের পরিবারকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখতে হবে। খাওয়া-দাওয়া দিতে হবে।
মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেন জানতে চাইলে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষকে আমরা বিভ্রান্তি করেছি। একেক সময় একেক কথা বলায় মানুষ এখন কিছু বুঝতে পারছে না। মানুষ যখন হাসপাতালে গেছে, তখন তাকে ভর্তি করিনি। বলা হয়েছে টেস্ট করে আনতে। হাসপাতালে ভর্তির জন্য মানুষ এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে গেছে। ভর্তি হতে পারেনি। পরে আবার মানুষকে ডাকছি। বলা হচ্ছে, হাসপাতালে বেড ফাঁকা, ভর্তি হোন। টেস্ট করা নিয়ে মানুষকে কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। লকডাউনের নামে মানুষকে বন্দি করে রাখা হলো। টেস্ট করাতে ফি নির্ধারণ করা হলো, দ্বিতীয় পরীক্ষা বন্ধ করা হলো। উপসর্গ ছাড়া পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এসব বিধিনিষেধের কারণে মানুষ এখন বিরক্ত হয়ে আর নমুনাই দিচ্ছে না। মাস্ক পরছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, হতাশ হয়ে মানুষ এখন কিছুই মানছে না। নানা কারণেই মানুষের মধ্যে বিরক্ত ও অবিশ্বাস জন্মেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে সঠিক কোনো গাইডলাইন তৈরি করতে পারিনি। এসব কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি তাদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্যবিধি মানানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখন মানুষের কাছে আবার যেতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে আসুন, সবাই মিলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করি। একটু মানবিক হতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষ এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। কিছুই মানছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ভয় কমে গেছে। সেগুলো কতটুকু বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করব। পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়াসহ মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে আগ্রহী হয়, সেজন্য আমরা দেশব্যাপী বিশেষ প্রচার কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছি। চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ জরুরি। সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করছি প্রতিরোধের একটা ইউনিভার্সেল লোগো তৈরি করে সব জায়গায় ব্যাপকভাবে ক্যাম্পেইন করার। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা, এটা সবাই জানে। কিন্তু মাথার মুখে ঢুকিয়ে দিতে হবে। কারণ আমরা জানি না কতদিন আমাদের কভিডের সঙ্গে বসবাস করতে হয়। মানুষকে বাঁচাতে হবে। দেখতে পাচ্ছেন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাও যাচ্ছেন অনেকে।
ছয় মাসের মাথায় এখন মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে একটা শৈথিল্যভাব এসেছে বলে মনে করেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইছে না। জীবন-জীবিকার জন্য আমাদের অনেক কিছু করতে হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনেও সেগুলো করা যায়। আমার গণমাধ্যমের প্রতি একটাই আহ্বান, যদি ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যবিধিগুলো আবার প্রচার করতে শুরু করেন যে বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে হবে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। ঈদের আগে আমরা ভয়ে ভয়ে বের হয়েছি। মাস্ক ছাড়া বের হইনি। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করেছি। কিন্তু ঈদের আগে হঠাৎ করে সেটা অনেক ঢিলেঢালা হয়ে গেল। টেস্ট, চিকিৎসাসহ সরকারের অন্য কর্মসূচি সব চলবে। কিন্তু জরুরি হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা। ৮০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু আমরা যদি নিজেরা আক্রান্ত হই, দুর্ভোগটা তো আমাদেরই। বিপদ তো নিজের। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা সবারই দরকার।
মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে মিলিয়ে যদি স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের কর্মসূচি নেওয়া না যায়, তাহলে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাবে না বলে মনে করেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথম দিকে যখন সারা দেশব্যাপী জনস্বাস্থ্য বিধিনিষেধ, যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হলো, তখন স্বাস্থ্যবিধি মানছিল মানুষ। কিন্তু পরে সরকার যখন নিজেই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু করল, তখন মাস্ক জীবনযাপনের অংশ ছিল না। এখন যদি এটা চালু করতে হয়, তাহলে নতুন করে সেভাবেই ভাবতে হবে। যারা এসব স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারছে না, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষ, তাদের কর্মস্থল ও বাসস্থানকে কেন্দ্র করে সেখানে মাস্ক বিতরণ করতে হবে। কাপড়ের মাস্ক বিনামূল্যে দিতে হবে। তারপর আমরা বলতে পারি, আপনারা কেন মাস্ক পরছেন না। এসব মানুষের কর্মস্থলে ও ঘনবসতি স্থানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পানির বেসিন সাবান সুব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রথম পর্যায়ে মানুষ অবশ্যই মেনেছিল। তখন কাপড়ের মাস্ক পরার কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেনি। তারপরও আমাদের দেশের মানুষ হাতের কাছে কাপড়ের যে মাস্ক পেয়েছে, সেটাই পরেছে। কিন্তু হঠাৎ করে যখন সবকিছু খুলে দেওয়া হলো, তখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখা দিল। আমরা বলেছিলাম ধাপে ধাপে খুলতে হবে ও খোলার সময় মাস্ক, সাবানসহ স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ দিতে হবে। এভাবে যদি ধাপে ধাপে সবকিছু খোলা হতো, তখন স্বাস্থ্যবিধি মানুষের জীবনের অংশ হয়ে যেত। এখন প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব বোঝা। সে ১০টা পেলেই তার পরিবারের জন্য খাবার কেনে। সে কেন একটা মাস্ক কিনবে? এছাড়া মৃত্যু কম, সংক্রমণ কমছে, এ ধরনের নানা তথ্যের কারণেও মানুষের মধ্যে ভয় কেটে গেছে।
ডা. মুশতাক হোসেন পরামর্শ দেন, এখন কমিউনিটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করে, তাদের মাধ্যমে মাস্ক সরবরাহ ও ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করতে হবে। ঘনবসতি এলাকার নারীদের মাস্ক বানাতে সাহায্য করতে হবে। সে মাস্ক সরকারকে কিনে নিতে হবে। তাদের সেলাই মেশিন আছে। কাপড় সাপ্লাই দিতে হবে। এসব মানুষকে কাজ দিতে হবে। তখন তারা কাজও পাবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও উৎসাহ পাবে। জীবন ও জীবিকার ব্যাপারে নিরাপত্তা পাবে।
একইভাবে আইসোলেশনের ব্যাপারেও সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে এ রোগতত্ত্ববিদ বলেন, একজন রিকশাচালক যদি রিকশা না চালায় তাহলে তার পরিবার না খেয়ে থাকবে। কাজেই তাকে যদি সরকারি আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, তাকে খাবার দেওয়া হয় এবং তার পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তাদের খাওয়া দেওয়া হয়, তাহলে তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানবে। কারণ তারা তো খাবারের জন্যই বাইরে যাচ্ছে।
এ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। কোরবানি ঈদের পর ধীরে ধীরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ছয় দিনে (৫-১০ আগস্ট) ঢাকা শহরেই ১০ হাজার রোগী বেড়েছে। ঢাকার বাইরে ৩৮ জেলায় কমপক্ষে ৫০ জন করে বেড়েছে। বন্যার কারণে কিছু কিছু জেলায় রোগীর সংখ্যা বাড়েছে না। কিন্তু বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ছে। যেমন সিলেট বিভাগের সব জেলায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ঢাকা জেলাতেও রোগী বেড়েছে। ফলে যে করেই হোক কমিউনিটিকে অন্তর্ভুক্ত করে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হবে।