কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা। গতকাল সোমবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।
এর আগে গতকাল দুপুরে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘এলাকায় মাদকবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। টেকনাফ থানার নোয়াখালীপাড়ায় আমার বাড়ি। আমাদের ওয়ার্ডের মাদক নির্মূল কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাকে। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার জন্য একটা বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’ এ ছাড়া এলাকায় মসজিদের জায়গাসংক্রান্ত একটা বিরোধের জের ধরেও কেউ ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে করছেন কোবরা। তিনি বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা সাহেবকে আমি কোনো দিন দেখিনি। কিন্তু বলা হচ্ছে, নিহতের দিন বিকেলে তিনি আমার বাগানবাড়িতে ছিলেন। কক্সবাজারে আমার খুবই সাদামাটা একটা পৈতৃক বাড়ি আছে। কোনো বাগানবাড়ি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে চ্যালেঞ্জ করে বলব, আমার বাড়ি ঘুরে দেখে যান। এখানে আমার বাবা-দাদারা থেকেছেন। এ বাড়িটি কোনো বাগানবাড়ি নয়। যারা আমার নামে মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব। এরই মধ্যে পরিচিত একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছি। আমার নামে অপপ্রচার বন্ধ না হলে আমি আইনের আশ্রয় নেব।’
কেন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মনে করেন? জানতে চাইলে কোবরা বলেন, ‘আমি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করি। আমাকে থানা থেকেই মাদক নির্মূল কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এলাকায় গিয়ে তরুণদের নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে নানা রকম কর্মসূচি পালন করি। এ জন্য বিশেষ একটি মহল ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে। এলাকার মসজিদসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেও আমাকে ফাঁসানো হতে পারে।’ ৪০ বছরের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভিজ্ঞতায় কখনোই অন্যায়কে সজ্ঞানে প্রশ্রয় দেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘সিনেমায় কাজের সুবাদে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমি সজ্ঞানে কখনো কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি, সবাই আমার সম্পর্কে জানেন। এখনো সিনেমায় কাজ করছি। গত বছরের অক্টোবরেও দুটি নতুন সিনেমার কাজ হাতে নিয়েছি। সিনেমার কাজের বাইরে যখনই এলাকায় আসি, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রাখি।’