পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর বিচার পেতে ৩৫ বছর

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বিচার পেল ভারতের সাবেক এক রাজপরিবার। ৩৫ বছর আগে রাজস্থানের ভরতপুরে প্রতাপশালী রাজপুত্র রাজা মান সিংহকে গুলি করে হত্যা করেছিল পুলিশ। কী এমন ঘটেছিল যে, একজন রাজপুত্রকেই পুলিশের গুলি খেয়ে মরতে হলো! আর বিচারেই বা এত সময় লাগল কেন সিএনএন অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

বিচার পেতে ৩৫ বছর

১৯৮৫ সালে শীতের একটি দিনে ভারতের রাজস্থানে পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিলেন একসময়ের স্বাধীন রাজ্য ভরতপুরের রাজপুত্র রাজা মান সিংহ। অগ্নিপুরুষ হিসেবে খ্যাত প্রতাপশালী সেই রাজপুত্রকে কেন প্রাণ দিতে হলো, তা নিয়েই ৩৫ বছর ধরে দেন-দরবার চলেছে ভরতপুরের রাজপরিবার এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে।

ভরতপুরের শতাব্দী পুরনো রাজপরিবারটির অভিযোগ ছিল রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নির্দেশেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় মান সিংহকে। তবে, সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, ঘটনার সময় আত্মরক্ষার্থে তারা ফাঁকা গুলি চালিয়েছিলেন। আর এতেই নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবা রাজপুত্র মান সিংহ নিহত হন।

আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৩৫ বছরে কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। অবশেষে গত মাসে (২১ জুলাই) ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মান সিংহের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে আদালতে বিচারিক কার্যক্রমের জন্য অন্তত ১ হাজার ৭০০ বার তারিখ ফেলা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার ফলে আসামিদের সবারই বয়স এখন ৬০-এর বেশি। আর এদের মধ্যে অন্তত চারজন সাজা ভোগের আগেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে, আলোচিত এই মামলার রায়টি ভারতের মতো দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এনকাউন্টারের নামে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হলেও পুলিশকে কখনো শাস্তি ভোগ করতে হয় না। মান সিংহের পরিবারও দাবি করেছে, রাজপরিবার না হলে তারা কখনোই হয়তো সুবিচার পেত না।

ভরতপুরের রাজপরিবার ও মান সিংহ

১৯২১ সালে রাজা মান সিংহ যখন জন্মগ্রহণ করেন, ভারতবর্ষ তখনো ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। তবে, বিস্তীর্ণ ভারতবর্ষের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষকে সরাসরি শাসন করত ব্রিটিশ রাজ। বাকি এক ভাগ মানুষকে শাসন করত অন্তত ৬০০ স্থানীয় শাসক। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে না হলেও অনুগত থেকে নিজ নিজ এলাকা শাসন করতেন ওই শাসকরা। ছোট এসব রাজত্ব থাকা ব্রিটিশ রাজের জন্য সুবিধাজনক ছিল। কারণ এসব রাজ্যে প্রশাসনিক দায়-দায়িত্বের জন্য বাড়তি কোনো লোকবলের প্রয়োজন হতো না। আর বহু রাজত্বে ভাগ হয়ে থাকার ফলে ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগও কম ছিল।

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর ছোট রাজ্যগুলো পুরো দেশের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। এভাবে ভরতপুর রাজ্যটিও স্বাধীন ভারতের অধীনে চলে আসে। মান সিংহের ভাই মহারাজা ব্রিজেন্দ্র রাজ্যটি শাসন করছিলেন তখন। রাজত্ব হারালেও রাজপরিবারগুলোকে তাদের প্রাসাদে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও পরে অনেক শাসকই রাজপ্রাসাদগুলোকে আকর্ষণীয় হোটেলে রূপান্তরিত করেছিলেন। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত রাজ পরিবারগুলোকে ব্যয় নির্বাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাতা দেওয়া হতো।

ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর বেশ কিছু রাজপরিবার রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হয়। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এসব পরিবারের মধ্যে ভরতপুরের রাজপরিবার অন্যতম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতা ও সম্পদ ধরে রাখার জন্যই রাজপরিবারগুলোর সদস্যরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শাসনক্ষমতার ঐতিহ্যকে আধুনিক এবং আইনগত বৈধতার মাধ্যমে উপভোগ করার প্রয়াস চালাতেন তারা।

ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই শক্তিশালী এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন মান সিংহ। ১৯৮৫ সালের মধ্যে রাজস্থান রাজ্যসভায় পরপর ছয়বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন তিনি। সেবার সপ্তমবারের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের মনোনীত এক প্রার্থীর সঙ্গে। কংগ্রেস মনোনীত সেই প্রার্থী ছিলেন সাবেক আইএএস কর্মকর্তা।

মান সিংহের জামাতা বিজয় সিংহ দাবি করেন, ১৯৮৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভরতপুরের ডিগ শহরে থাকা তার শ্বশুরের গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপন প্রাসাদে হানা দেন কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা। প্রাসাদের আঙিনায় টাঙানো একটি পতাকা তারা টেনেহিঁচড়ে নিচে নামান এবং এতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরের দিন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী শিবচরণ মথুর মান সিংহের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ডিগ শহরে একটি সমাবেশে যোগ দেন। শিবচরণ ছিলেন রাজস্থানের সবচেয়ে বেশিবার নির্বাচিত হওয়া কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী।

নিজ প্রাসাদে হামলার ঘটনায় এমনিতেই ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিলেন মান সিংহ। ভারতীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের ১৫৮ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্ষুব্ধ রাজপুত্র একটি ভারী যান নিয়ে শিবচরণের সমাবেশ স্থলে গিয়ে উপস্থিত হন। সমাবেশের জন্য নির্ধারিত স্টেজটি ওই গাড়ির আঘাতে গুঁড়িয়ে দেন। পরে যে হেলিকপ্টারে করে মুখ্যমন্ত্রী সমাবেশ স্থলে এসেছিলেন, সেটির ওপর হামলে পড়েন মান সিংহ। নিজের গাড়ি দিয়ে হেলিকপ্টারটিকে বারবার আঘাত করতে থাকেন তিনি। এতে দরজা ভেঙে পুরো হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সড়কপথে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে নিজের কার্যালয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শিবচরণ।

মান সিংহের জামাতা বিজয় সিংহের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীর সমাবেশে মান সিংহ যখন মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে গিয়ে আঘাত করতে থাকেন, তখন সেখানে উপস্থিত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাই তাকে গ্রেপ্তারের সাহস দেখায়নি। তবে ওই দিনই মান সিংহের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রতিবেদন দাখিল করেন এক পুলিশ সদস্য। মান সিংহ নিজের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ডিগ শহরের পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি একটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

বিজয় সিংহের দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, সেদিন দুপুরের মধ্যেই জামাতা বিজয় সিংহ ও পার্টির অন্য নেতাদের নিয়ে সমাবেশ স্থলের দিকে যাত্রা শুরু করেন মান সিংহ। যাত্রাপথে একটি জনাকীর্ণ বাজার এলাকায় তাদের গতি রোধ করে পুলিশের ৫০ জনের একটি দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিবাদ এড়াতে নিজের গাড়িটি উল্টো দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশ মান সিংহের ওপর গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

আত্মরক্ষার্থে গুলি!

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আত্মরক্ষা করতে গিয়েই তারা মান সিংহকে হত্যা করেছে। মান সিংহকে গ্রেপ্তার করার জন্য ওই বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু মান সিংহের লোকরা তাদের ওপর দেশে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। এক পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত নেতাকর্মীদের আত্মসমর্পণ করতে বললে মান সিংহ চিৎকার করে বলেন, ‘মেরে ফেল এই অচ্ছুতদের!’

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তারা গুলি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এতে মান সিংহ ও তার দুই সহযোগী আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আহত তিনজনকে পুলিশ চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

আদালতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আইনজীবীরা মান সিংহকে বদমেজাজি আখ্যা দিয়ে তার অতীত কিছু কর্মকাণ্ডও তুলে ধরেন। তারা জানান, এর আগে ১৯৭১ সালের নির্বাচনেও নিজের গাড়ি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গাড়িতে সজোরে আঘাত করেছিলেন মান সিংহ। পরে ১৯৭৩ সালেও পুলিশবাহী একটি গাড়ির ওপর তিনি চড়াও হন এবং পুলিশের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নেন।

এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিজয় সিংহ বলেন, ‘আত্মরক্ষার কোনো ঘটনা নয়, মান সিংহকে সেদিন খুন করা হয়েছিল।’ ঘটনার দিন বিজয় সিংহের শরীরের একটি গুলি লেগেছিল। তিনি দাবি করেন, হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য রাজস্থানের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবচরণ মান সিংহের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মান সিংহকে হত্যা করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনাটি বাজারের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটলেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করে রাখা হয়। ঘটনার দিন প্রথম গুলিটি করেছিলেন পুলিশের তৎকালীন সহকারী নিয়ন্ত্রক কান সিংহ ভাটি। বর্তমানে তার বয়স ৮২ বছর। বিজয় সিংহ এও দাবি করেন, তার শ্বশুর ও পার্টির দুজন নেতা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ঘটেছে এমন প্রমাণ করার জন্য ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায় পুলিশ। বিজয় বলেন, ‘যে পরিবারে অন্তত ১০টি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তারা কেন দেশে নির্মিত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবেন।’

গত মাসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের রায়ে বলা হয়, পুলিশের তৎকালীন সহকারী নিয়ন্ত্রক কান সিংহ ভাটির নির্দেশেই গুলির ঘটনা ঘটেছিল। মান সিংহ ও তার সঙ্গীদের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না এবং তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন।

রায়ের পর মান সিংহের মেয়ে কৃষ্ণেন্দ্র কাউর বলেন, ‘সত্য প্রকাশিত হওয়ায় রাজপরিবার ও সাধারণ মানুষ খুশি। তারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।’ পিতা হত্যার বিচার দেখে যেতে পারার জন্য তিনি ও তার অন্য দুই বোন বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছেন।

বিচার দীর্ঘ হওয়ার কারণ

মান সিংহকে হত্যা করার পর ভরতপুরের অসংখ্য মানুষ উন্মাদপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশশাসিত ভারতের ছোট স্বাধীন রাজ্যগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ রাজ্যেই রাজপরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শুধু শাসন ও শোষণের সম্পর্ক ছিল। তবে, ভরতপুর ছিল ব্যতিক্রম। এই রাজ্যের প্রজারা রাজপরিবার ও রাজব্যক্তিবর্গকে খুব ভালোবাসত। মান সিংহ নিজেই কৃষকের সঙ্গে মাঠে-ঘাটে নিঃসংকোচে কাজ করতেন। তার প্রজারা তাকে প্রায়ই ‘রাজাদের কৃষক এবং কৃষকের রাজা’ বলে আখ্যায়িত করত। প্রজাদের সঙ্গে ভরতপুর রাজপরিবারের সদয় সম্পর্ক নিয়ে অনেক গল্পও প্রচলিত আছে। ফলে মান সিংহের মৃত্যুর পর ডিক শহরে শত শত মানুষ তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেয়। অন্যদিকে, কোনো আন্দোলন যেন দানা না বাঁধে সেজন্য সমগ্র ভরতপুরে কারফিউ জারি করা হয়। উত্তেজিত মানুষকে দমন করতে কঠোর পথ বেছে নেয় প্রশাসন। এতে মান সিংহের সমর্থক আরও তিনজন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

১৯৮৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মান সিংহের জামাতা বিজয় সিংহ একটি অভিযোগনামা দেন, যেখানে তিনি দাবি করেন পুলিশ খুন করেছে তার শ্বশুরকে। প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ এই মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং পুলিশের তৎকালীন নিয়ন্ত্রকের কাছে নালিশ জানান। পরে ওই কর্মকর্তা পুলিশকে মামলা নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেন। সে বছরের জুলাই মাসে ১৮ জন পুলিশকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়।

ঘটনার পর বিচারের দাবিতে ভরতপুরের পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। কিন্তু আদালতের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে শুরু করে। স্থানীয় সরকার বিচারিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এই ভয়ে মান সিংহের পরিবারের সদস্যরা মামলাটিকে রাজস্থান থেকে উত্তর প্রদেশের মথুরায় নিয়ে যায়। পরে ১৯৮৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটিকে উচ্চ আদালতে হস্তান্তর করে। তারপরও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে শুরু করে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত ২৬ জন বিচারক মামলাটি নিষ্পত্তি করার প্রয়াস চালিয়েছেন।

রাজপরিবার বা বাদীপক্ষের আইনজীবী নারায়ণ সিং জানান, ১৯৯০ সাল থেকে আদালত ৬১ জন সাক্ষীর বয়ান নিতে শুরু করে। এই কার্যক্রম চলে টানা ১৭ বছর। চার বছর চলে যায়, বিবাদীপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীকে জেরা করে। সর্বশেষ আট বছর কাটে মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নারায়ণ সিং দাবি করেন, বিবাদীপক্ষ মামলা পরিচালনার স্বাভাবিক গতিকে নানা দিক দিয়ে বাধাগ্রস্ত করেছে। শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তারা শত শত অজুহাত দেখিয়েছে। এ ছাড়া মামলার ১৮ জন অভিযুক্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে।

বিজয় সিংহ বলেন, ‘পুলিশ ভালো করেই জানে কীভাবে মামলার জল ঘোলা করে সুবিধা নিতে হয়।’