চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে তারা সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার বালু তোলা শুরু করে অভিযোগ উঠেছে। এতে যেমন সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সৈকতও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, গহিরা উঠান মাঝির ঘাট এলাকাসংলগ্ন সৈকত থেকে বালু কেটে মিনি ট্রাকে তুলছেন ১০-১২ জন শ্রমিক। অন্তত ২৫ ফুট জায়গায় গর্ত করে বালু তোলা হয়েছে। ট্রাক ভর্তি সেই বালু নেওয়া হচ্ছে বেড়িবাঁধের পাশে মৎস্য আড়তে। বালু ভর্তি একটি মিনি ট্রাক লোকালয়ে ঢুকতেও দেখা গিয়েছে।
বালু তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতা ও মৎস্য আড়তদারদের নির্দেশে কাজ করছি। তারা এখান থেকে বালু উত্তোলন করতে বলেছেন।’
যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখান থেকে ৫০০ মিটার দক্ষিণে সৈকত-সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গহিরা সৈকতের এ অংশ এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে এ অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিসি ব্লকসহ বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই এখান থেকে মাঝে মাঝে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র নিজেদের প্রয়োজনে যখন খুশি সৈকত থেকে বালু কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে এই এলাকার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে সৈকতের বালুর চর দিয়ে। কিন্তু অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে চরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে গাড়ি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
গত ২৯ জুলাই রাতে সৈকত চরের গর্তে পড়ে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে যায়। পরের দিন সেই অ্যাম্বুলেন্স ক্রেন দিয়ে তোলা হয়।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জানে আলম বলেন, সৈকত থেকে বালু তোলার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ জন্য সৈকত এলাকায় গ্রাম পুলিশ দিয়ে পাহারায় রেখেছি। এরপরও কিছু অসাধু ব্যক্তি সৈকতের বালু তোলে নিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, যারা সৈকত থেকে বালু তোলে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।