তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ। যেসব দেশি-বিদেশি চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা ভেবেছিল, বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। ‘জাতীয় শোক দিবস ২০২০’ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যখন দেখল স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তিন কোটি গৃহহারা মানুষকে পুনর্বাসন করে পোড়ামাটির ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সমৃদ্ধির পথে এগুতে শুরু করল, ঠিক তখন সেই সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করল।’
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড পরিচালনার ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের দেশবিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার, পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ সবই ছিল একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আইন করে আমাদের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে বিদেশি মালিকানা থেকে উদ্ধার করে দেশের মালিকানায় নিয়ে আসেন। আজ আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্রসীমার মালিক হয়েছি। এটি কখনই হতো না যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত পরিষদ আনক্লসের সদস্য না হতেন। সেই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না করতেন। আর যে ছিটমহল চুক্তিকে অনেকে গোলামির চুক্তি বলতেন ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা সেই চুক্তির আলোকেই আজ আমাদের স্থলসীমা বেড়েছে।’