করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৫৮তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪২ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৫১৩ জন। গত ২৮ জুলাই মোট মৃত্যু তিন হাজার পূর্ণ হওয়ার পর গত ১৫ দিনে ৫১৩ জনের মৃত্যু হলো। এই ১৫ দিন প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৩৪-৩৫ জনের মৃত্যু হলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪২ জন রোগী, যা গত আট দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ৯৯৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট পরীক্ষা ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। শেষ এক লাখ পরীক্ষা হয়েছে গত আট দিনে।
গতকাল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরীক্ষাগারগুলোতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫০টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৫১টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৯৯৫ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪২ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১১৭ জন।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৩ লাখ ২ হাজার ৭৩৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৫১৩ এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ ও নারী ৯ জন। সর্বোচ্চ ২৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে সিলেটে ৪, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৩ জন করে, রংপুর ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং বরিশালে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৯ ও বাড়িতে ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১, ৩১-৪০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৫১-৬০ বছরের ১১ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ২৪ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৭৮২ ও নারী ৭৩১ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ ও নারী ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮১৯, খুলনায় ২৭১, রাজশাহীতে ২২৬, সিলেটে ১৬২, রংপুরে ১৪১, বরিশালে ১৩৫ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৭৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৬২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৭৩০ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৩ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৮৭৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৬৫ হাজার ৫১৩টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ১৮৫ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ২০৫ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৫২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৮৬৩টি ও ৩০৫টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৯টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৫৬টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২১টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৫৯৪টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৭টি।