করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে প্রায় সাড়ে চার মাস বন্ধের পর শারীরিক উপস্থিতিতে উচ্চ আদালতে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গত সোমবার হাইকোর্টের ৩৫টি ভার্চুয়াল বেঞ্চের পাশাপাশি ১৮টি (একক ও দ্বৈত) নিয়মিত বেঞ্চ গঠন করে দেন। সে অনুযায়ী গতকাল এসব নিয়মিত বেঞ্চ বসে।
প্রথম দিনে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে লোকসমাগম কম ছিল। প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালতে প্রবেশ করতে হয়। বিচারপতি ও আইনজীবীদের কালো গাউন পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় অনেককে সাদা পোশাকেই আদালতে দেখা যায়।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ফৌজদারি মামলায় ইতিমধ্যে আসামিদের দেওয়া জামিন এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও স্থগিতাদেশের মেয়াদ আদালত পূর্ণাঙ্গরূপে খোলা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করে। তার সঙ্গে মিল রেখে আদালতেও ছুটি শুরু হয়, যা সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরে কয়েক দফা বাড়ে। এক পর্যায়ে আইন করে ১১ মে থেকে বিচারিক এবং ১২ মে থেকে উচ্চ আদালতে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়। সরকার ৩০ মে’র পর সাধারণ ছুটি না বাড়ালেও ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলছিল।
তবে বিভিন্ন জেলায় আইনজীবীরা স্বাভাবিক সময়ের মতো বিচারকাজ চালানোর দাবি তুললে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গত ৫ আগস্ট থেকে দেশের বিচারিক আদালতে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু হয়। আর গতকাল চালু হলো উচ্চ আদালত।