স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত ডিজি হলেন মীরজাদী সেব্রিনা

করোনা মহামারীকালে নানা অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যাপক রদবদলের পর এবার সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব পেলেন অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাকে এ পদে পদায়ন করে। কেমব্রিজের পিএইচডি ডিগ্রিধারী সেব্রিনা বর্তমানে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালকের পদে আছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ডা. সেব্রিনাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। আগামী ২০ আগস্ট থেকে তিনি দায়িত্ব নেবেন বলে এতে বলা হয়। বর্তমানে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা। আগামী ১৮ আগস্ট চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি অবসরে যাবেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অধ্যাপক সেব্রিনা এমবিবিএস পাস করার পর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠাননিপসম থেকে রোগতত্ত্বে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়ে তিন বছর গবেষণা করেন। তিনি ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ফেলো। ২০১৬ সালে আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান সেব্রিনা।

চীনে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সবশেষ তথ্য তুলে ধরা শুরু করেছিলেন সেব্রিনা ফ্লোরা। তখন থেকেই পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও মাসখানেক পরে আইইডিসিআর থেকে এই দায়িত্ব নিয়ে নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবশেষে গত বুধবার থেকে অধিদপ্তরের সেই বুলেটিনও বন্ধ হয়ে যায়।

করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সম্প্রতি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তাকে গত দুদিনে দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজাদের পদত্যাগের পর গত ২৩ জুলাই অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগের ১৭ দিনের মাথায় গত রবিবার তাকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ ডিজি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।