শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়েছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৫৯তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪৪ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত নয় দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। চলতি মাসের প্রথম ১১ দিন দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩২-৩৩ জন করে রোগীর মৃত্যু হলেও গত দুদিন ৪২ ও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুদিন ধরে করোনায় মৃত্যু বাড়লেও নতুন রোগী শনাক্তের হার কমেছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পর গত মঙ্গল ও বুধবার রোগী শনাক্তের হার কমে ২০ শতাংশে নেমেছে। গতকাল তা আরও কমে ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে। এদিন অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজারের বেশি পরীক্ষায় আরও ২ হাজার ৬১৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের শতকরা হার ছিল ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা গত ৩৯ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। তিন দিন ধরে সংক্রমণ হার কমায় দেশে করোনা রোগী শনাক্তের গড় হারও দীর্ঘদিন পর সামান্য কমেছে। প্রায় দুই মাস ধরে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ থেকে গতকাল ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমেছে।

এদিন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার বাইরে সরকারি পর্যায়ে আরেকটি পরীক্ষাগার নতুন করে চালু হয়েছে। সেটি হলো, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল পিসিআর ল্যাব। এ নিয়ে সারা দেশে সর্বমোট ৮৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৯২টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬২টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৬১৭ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৪ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৮২ জন।

অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০১টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ১১৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৫৫৭ এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭১ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩১ ও নারী ১৩ জন। সর্বোচ্চ ১৯ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৭, চট্টগ্রামে ৬, সিলেটে ৪, রাজশাহী ও বরিশালে ৩ জন করে এবং রংপুরে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ ও বাড়িতে ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ৩১-৪০ বছরের ১, ৪১-৫০ বছরের ৭, ৫১-৬০ বছরের ১১ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ২৫ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৮১৩ ও নারী ৭৪৪ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ ও নারী ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮২৫, খুলনায় ২৭৮, রাজশাহীতে ২২৯, সিলেটে ১৬৬, রংপুরে ১৪৩, বরিশালে ১৩৮ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৭৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮১৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৭০৮ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৩২ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৯০২ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৬২ হাজার ৯৩৫টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৭২৪ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৫২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৮২১টি ও ৩০৫টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৪টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫১৩টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২৬টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৫৮৮টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৬টি।