অগ্ন্যাশয় ক্যানসার গবেষণা

অভূতপূর্ব সাফল্য বাঙালি বিজ্ঞানীর

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার গবেষণায় অভূতপূর্ব এক সাফল্যের খবর পেল বিশ্ববাসী। মরণব্যাধির এই চিকিৎসার নতুন একটি জেনেটিক মডেল তৈরি করে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন বাঙালি এক বিজ্ঞানী। আশাজাগানিয়া এ জেনেটিক মডেলটিকে ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী এক আবিষ্কার হিসেবেই দেখছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব গবেষক। অদূর ভবিষ্যতে নতুন এ মডেলটি ঘিরেই অগ্ন্যাশয় ক্যানসার উপশমের উপায় সুগম হবে বলে আশাবাদী ওই উদ্ভাবক।

কলকাতার মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে জন্ম অনিন্দ্য বাগচির। বর্তমান বসবাস আমেরিকায়। অনুসন্ধানই তার জীবনের মূলমন্ত্র। সেই অনুসন্ধানের মানসিকতাই আজ এক বিশাল কৃতিত্বের সামনে এনেছে তাকে। দুরারোগ্য অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় জেনেটিক স্ট্রাকচার আবিষ্কার করে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এ বিজ্ঞানী।

নিঃসন্দেহে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার এক মরণব্যাধি। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চিকিৎসকরা বলে আসছেন এ রোগের কার্যত কোনো চিকিৎসা নেই। যদিও রোগটি নিয়ে পরবর্তীকালে একটি হাইপোথিসিস তৈরি হয়েছিল। এছাড়া সেই হাইপোথিসিসের ওপর নির্ভর করেই দীর্ঘদিন ধরে রোগটির চিকিৎসাও চলছিল। তবে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার জেনেটিকসের অধ্যাপক অনিন্দ্য। কয়েক বছরের মধ্যেই এক আশ্চর্য সত্যের মুখোমুখি হন তিনি ও তার সহযোগীরা। এতদিন ধরে যে হাইপোথিসিসের ওপর ভিত্তি করে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল, তা রোগের উপশম তো করেই না বরং উল্টো ফল হতে পারে। আট বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর শেষ পর্যন্ত অনিন্দ্য ও তার দল একটি প্রোটিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা অগ্ন্যাশয় ক্যানসার উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে তিনি কোনো ওষুধ আবিষ্কার করেননি। বরং অগ্ন্যাশয় ক্যানসার উপশমের একটি জেনেটিক মডেল তৈরি করেছেন তিনি। যা ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি হতে পারে এবং যার ব্যবহার শুরু হলে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।