চট্টগ্রামে শোক ও শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস চট্টগ্রাম নগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল-বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, শোক শোভাযাত্রা, মিলাদ, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা ইত্যাদি।

চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, রেলওয়ে, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ, সিভাসুসহ আরও অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান জাতীয় শোক দিবসের নানা কর্মসূচি পালন করেন। 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নগরীর দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জি.মোশাররফ হোসেন এমপি।

তিনি বলেন, বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টিই হতো না। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। খুনিরা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে; কিন্তু তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতির সমস্ত অর্জন ধ্বংস ও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা হয়। আল্লাহর রহমতে বাংলার জনগণের সমর্থন নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সংগঠনের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি এড.ফখরুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আতাউর রহমান। বক্তব্য রাখেন-প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, স্বজন কুমার তালুকদার, আবুল কাশেম চিশতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, জসিম উদ্দিন শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক  মহিউদ্দিন বাবলু প্রমুখ।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চসিক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর টাইগারপাস নগর ভবনের সম্মুখস্থ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন। এরপর চসিক কনফারেন্স হলে আলোচনাসভা, খতমে কোরআন,মিলাদ ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

পরে প্রশাসক মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সারা দেশে ১ কোটি চারাগাছ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাইগারপাস্থ বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়„য়া, প্রধান পªকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আকতার নেলী, প্রশাসকের একান্ত সচিব আবুল হাশেম প্রমুখ।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের নেতৃত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোসেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক প্রমুখ।