চট্টগ্রামে চামড়া কেনা শুরু করেছেন ট্যানারি মালিকরা

চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে শুরু করেছেন ঢাকার ট্যানারি মালিকরা। এতে কোরবানির মৌসুমে সংগৃহীত চামড়ার ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আড়তদাররা। তারা জানান, বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন আড়তে প্রায় সোয়া লাখ চামড়া মজুদ রয়েছে। এগুলো বিক্রির পর নগরীর বাইরের এলাকায় মজুদ চামড়া নিয়ে আসা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে এবার কোরবানি মৌসুমে প্রায় চার লাখ পিস চামড়া লবণজাত করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর কালুরঘাট, আতুরার ডিপো, হালিশহর, বিবিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার আড়তগুলোতে রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার পিস। অবশিষ্ট প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি চামড়া এখনো রয়েছে নগরীর বাইরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আড়তগুলোতে।

আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চামড়া সংগৃহীত হলেও তা কেনার জন্য এখানে পর্যাপ্ত ট্যানারি নেই। এক সময় চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২টি ট্যানারি ছিল। কিন্তু লোকসানের কারণে সব ট্যানারিই বন্ধ হয়ে যায়। এখন চট্টগ্রামে রিফ লেদার নামে একটি ট্যানারি রয়েছে। এর ক্রয়ক্ষমতাও খুব বেশি নয়। ফলে কোরবানি মৌসুমে নির্ভর করতে হয় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের দিকে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি মালিক চট্টগ্রামে চামড়া কিনতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ঢাকা হাইড ও পান্না লেদার বিভিন্ন আড়ত থেকে বেশ কিছু চামড়া কিনে নিয়েছে। আরও কয়েকটি ট্যানারির প্রতিনিধিদের শিগগিরই চট্টগ্রাম আসার কথা। স্থানীয় রিফ লেদারও বিভিন্ন আড়ত থেকে নিজেদের পছন্দসই চামড়া কিনছে। তারা এবার ৫০ হাজার পিস চামড়া কিনবে বলে জানিয়েছে। খুলনার সুপার ট্যানারিও কিনবে ৫০ হাজার পিস চামড়া।

আড়তদার সমিতির সাবেক এই সভাপতি বলেন, চট্টগ্রামে চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি না থাকায় চামড়ার কাক্সিক্ষত মূল্য পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বাকিতেই চামড়া কিনে থাকেন। আর এই বকেয়া টাকা আদায় করতে গলধঘর্ম হতে হয় ব্যবসায়ীদের। ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি মালিকের কাছে এখনো ১৫-২০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে বলে জানান তিনি।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় আড়াইশ’র বেশি আড়তে  কোরবানির মৌসুমে সংগৃহীত চামড়া রয়েছে। এসব চামড়া লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করে রাখা হয়েছে।

দেশের চামড়া শিল্পের কাঁচামালের বড় অংশ জোগান দেয় চট্টগ্রামের আড়তগুলো। আর এই চামড়া সংগ্রহ করার প্রধান মৌসুম হচ্ছে কোরবানি ঈদ। এবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে সাড়ে চার লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এবার চামড়া সংগ্রহ কিছুটা কম হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার সংগৃহীত চামড়ার পরিমাণ প্রায় চার লাখ পিস। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নগরীর আড়তগুলোতে রাখা চামড়াগুলো বিক্রি হওয়ার পর বাইরের আড়তগুলোতে চামড়া এখানে নিয়ে আসা হবে। এখান থেকেই ট্যানারির লোকজন এসব চামড়া কিনে নিয়ে যাবেন। চলতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার জন্য প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।