প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে সরকার গঠন করে অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর (শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যাকারীদের বিচার না করার ইনডেমনিটি দিয়েছেন। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা করা সন্ত্রাসীদের বিচার না করার ইনডেমনিটি দিয়েছেন।’
গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়ার ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের যাকে যেখানে পেয়েছে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর সেই হত্যার বিচার হবে না বলে ইনডেমনিটিও খালেদা জিয়া দিয়ে গেছেন। যুবলীগের মাসুমকে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছিল, যার ফলে সে মৃত্যুবরণ করেছিল। এরকম শত শত লোককে হত্যা করা হয়। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের (বিচারবহির্ভূত হত্যা) কথা আজ সবাই বলে সবাই ভুলে গেছে যে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমাদের রিসার্চ সেন্টার দখল করে নেয়। ১৫টি কম্পিউটার, বই, ৩০০ ফাইল, নগদ টাকা সবকিছু লুট করে সিল করে দেয়। যেন আমরা সেখানে বসে কাজ করতে না পারি। একটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে।
জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেই আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটিকে ভিসা দেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আইন করে বন্ধ রেখেছেন এবং পাকিস্তানি মদদদাতা আলবদর, রাজাকার, আলশামসদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। মীরজাফরের মতোই খুনি মোশতাককে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে ক্ষমতা হাতে নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। খুনিদের বিচার বন্ধ করা, তাদের ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া পাঠানোসহ সব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে জিয়াউর রহমান এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ছিলেন।’
’৭৫-পরবর্তী সময়ে নিজের জীবনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির মেয়ে হয়েও তাদের নাম-পরিচয় গোপন করে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। খুনিরা বিভিন্ন দূতাবাসে আরাম-আয়েশে জীবন কাটিয়েছে।’