ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল রাজধানীর গুলশান এলাকায় তিনটি বিউটি পার্লারে অভিযান চালিয়ে ৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দার উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সার ও ফেরদৌসী মাহবুবের নেতৃত্বে গত রবিবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দ্য জাভেদ হাবীব বিউটি পার্লার, জাহিদ খান ব্রাইডাল মেকওভার ও ব্রাইডাল স্টুডিও এবং অ্যারোমা থাই স্পা।
জাভেদ হাবীব বিউটি পার্লার ওই ভবনের দুটি ফ্লোরের মাসিক ভাড়া বাবদ ৮ লাখ টাকা দিলেও ভ্যাট দেয় ৫০ হাজার টাকার মতো। এক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার তথ্য গোপন করা হয়েছে। যথাযথ ভ্যাট চালান ইস্যু না করে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে পার্লারটি। অন্যদিকে মাসিক রিটার্নে তার প্রকৃত বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। ভ্যাট গোয়েন্দার দল প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ হওয়া কাগজপত্র যাচাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ দশমিক ৬০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পায়। বিলাসবহুল ব্রাইডাল পার্লার জাহিদ খান ব্রাইডাল মেকওভার ও ব্রাইডাল স্টুডিও ব্রাইডাল পোশাক ও গহনা বিক্রি করে থাকে। তাদের ভ্যাট রিটার্ন যাচাই করে দেখা যায়, তারা প্রকৃত বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। যথাযথভাবে ভ্যাট চালানও ইস্যু করে না। পুরনো ও বাতিল নিবন্ধন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। অনুসন্ধানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি পাওয়া যায়। অ্যারোমা থাই স্পাতেও পুরনো ও বাতিল নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা হচ্ছে। ভ্যাটের হিসাবপত্র সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়নি। ভ্যাটের দলিল ও বাণিজ্যিক কাগজপত্রে ব্যাপক গরমিল রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। ভ্যাট আইন অনুসারে এই তিন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেনি। ১৩ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন সনদ প্রাঙ্গণে ঝুলিয়ে রাখার বিধান থাকলেও তা পরিপালন করেনি। এই তিন পার্লারের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইন লংঘনের দায়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।