জাফরুল্লাহর জাইমা পরামর্শ নাকচ বিএনপি নেতাদের

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপদেষ্টা রেখে নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নেতৃত্বে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। তার এমন পরামর্শ নাকচ করে দিয়ে বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল। তারা মনে করেন, এখনো দলের ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে খালেদা জিয়ার। তার মানসিক দৃঢ়তাও রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রয়েছেন। এরপর ডা. জোবাইদা ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তো রয়েছেনই। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাইমার বয়স এখন ২২। লন্ডনে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তিনি। আগামীদিনে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হবেন। ঘর-সংসার করবেন। এখনই বিএনপির নেতৃত্ব দিতে হবে এমন কিছু ঘটেনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একদিকে যেমন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার ওপর বয়সের ভারে অসুস্থ। বিকল্প নেতৃত্বে আছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। বর্তমানে সপরিবারে লন্ডনে রয়েছেন। ইতিপূর্বে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৩ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপদেষ্টা রেখে নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নেতৃত্বে আনার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জাইমাকে গড়ে তুলতে এখন থেকেই কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্প্রতি তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর এখনো ভালো আছে। তিনি এখন থেকে জাইমাকে প্রস্তুত করতে পারেন। তাছাড়া তারেক অবসরপ্রাপ্ত। এখন তরুণ কারও আসা দরকার। শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন তারেকের মেয়ে। তাহলেই নতুন গতি আসবে। আর এতেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। জোবায়দা-জাইমা যেই হোক, তরুণ  নেতৃত্ব গ্রহণ করতে কর্মীরা প্রস্তুত বলেও মত দেন বিএনপি নেতারা।

জাইমাকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে পরামর্শ দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার এখনো দল ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসা করা গেলে তিনিই নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এ মুহূর্তে বিএনপির খালেদা জিয়ার বাইরে বিকল্প চিন্তাভাবনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও রয়েছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই দুজনের পরও রয়েছেন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী এর আগে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দল থেকে ইস্তফা দিতে বলেছিলেন। তার পরিবর্তে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদাকে নেতৃত্বে আনার কথা বলেছেন। এখন আবার বলছেন জাইমার কথা। তিনি একজন শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে তার আশার কথা বলতে পারেন। কিন্তু দল কার নেতৃত্বে চলবে তা নির্ধারণ করেন দলের নেতাকর্মীরা। তারাই ঠিক করবেন বিএনপি কে পরিচালনা করবেন।

বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট নেই। একাধিক যোগ্য নেতৃত্ব বিএনপিতে রয়েছে। দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতীক খালেদা জিয়া। তিনি এখনো দল ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটে গেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও তাদের সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রয়েছেন। সে হিসেবে জাইমা চতুর্থ নম্বরে রয়েছেন।

জাইমা রহমানকে নেতৃত্বে আনার বিষয়ে খালেদা জিয়ার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাইমা এখনই এসব নিয়ে কিছু ভাবছেন না। তিনি তার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন।

ঐ স্বজন বলেন, তারেক রহমান, জোবাইদা ও জাইমার কারোরই এখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেও তারা পাসপোর্ট পাননি। পরে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন তারা। সে হিসেবে তারা লন্ডনে অবস্থান করছেন। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পরও পাসপোর্ট জটিলতায় তারা দেশে আসতে পারেননি। এছাড়া খালেদা জিয়া জেলে গেলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন। এরপরও তারা দেশে আসতে পারেননি।