নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। গতকাল সোমবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৬৩তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত চার দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে আরও ২ হাজার ৫৯৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে পাঁচ শতাধিক বেশি। আগের দিনের চেয়ে এ দিন পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে রোগী শনাক্তের হারও বেড়েছে। আগের দিন ২০ দশমিক ২০ শতাংশের বিপরীতে গতকাল ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে আগের দুদিনের চেয়ে গতকাল সুস্থ কিছুটা বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৬ শতাধিক রোগী সুস্থের মধ্য দিয়ে এ দিন দেশে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।

গতকাল অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৩৬টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৫২৩টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৫৯৫ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ দিন শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৭ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ জন।

অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৯৪ এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৮ ও নারী ৯ জন। সর্বোচ্চ ২০ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৬, চট্টগ্রামে ৪, রাজশাহী ও রংপুরে ৩ জন করে এবং বরিশালে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ ও বাড়িতে ৬ জন। মৃতদের মধ্যে ৩১-৪০ বছরের ৩, ৪১-৫০ বছরের ৮, ৫১-৬০ বছরের ৮ ও ষাটোর্ধ্ব বয়সী ১৮ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯১৮ ও নারী ৭৭৬ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৯৯ ও নারী ২১ দশমিক ০১ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৬৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৮৪১, খুলনায় ২৯৫, রাজশাহীতে ২৪৩, সিলেটে ১৭৪, রংপুরে ১৫১, বরিশালে ১৪২ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৮০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৪০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২০ হাজার ১০১ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৭১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৮০৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৫৬ হাজার ৫১৮টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৪৩৮ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ৫৮১ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৮১৮টি ও ৩০৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৯২টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৩৫টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৬টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৬০১টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১১২টি।