স্বাস্থ্য সচিব ও ডিজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

আদালত অবমাননা প্রশ্নে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসাসহ ভুক্তভোগীকে সহায়তাকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা বাস্তবায়নে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের এ রুল জারি করে।

স্বাস্থ্যের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষে হাইকোর্টে আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাকে সহায়তাকারী ব্যক্তির সুরক্ষা দিতে একটি নীতিমালা আগেই ছিল। যতদিন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই নীতিমালাকে আইনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। তাতে ওই নীতিমালা সংশোধন করা, এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা, এ বিষয়ে প্রকাশনা ও প্রচারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করাসহ কিছু নির্দেশনা ছিল। রাশনা ইমাম বলেন, ‘এই দুই বছরে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছুই করেনি। তাদের উদ্দেশ্যে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানোর পর জবাব না পেয়ে আদালত অবমাননার বিষয়ে আবেদন করা হয়।’ 

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি রাজধানীতে আরাফাত নামে একটি বাসের চালকের সহকারী (হেলপার) বাস থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হলে তাকে তিনটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও হাসপাতালগুলো চিকিৎসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর গুলশান থানার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ব্লাস্ট। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে পদক্ষেপ নেওয়া, ভুক্তভোগীকে সহায়তাকারী ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য নীতিমালা তৈরি করতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদেশের প্রেক্ষিতে সরকার নীতিমালা তৈরি করে আদালতে দাখিল করার পর ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় আদালত। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত নীতিমালার দুটি অংশে আদালতের পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ, এ নিয়ে প্রচারণার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।