শনাক্ত ও মৃত্যুতে হঠাৎ লাফ

দেশে হঠাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রায় এক মাস পর এক দিনে তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৬৪ তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ২০০ নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা গত ৩৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে দেশে আরও ৪৬ রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এদিন রোগী শনাক্তের হারও বেড়েছে। সাড়ে ১৪ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষায় ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। তবে এদিন শনাক্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাতেও ঊর্ধ্বগতি ছিল। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ২৩৪ রোগী সুস্থ হয়েছেন, যা গত ৩৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গতকাল অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রমে ঢাকায় নতুন চারটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছেন্যাশনাল টিউবারকুলোসিস রেফারেন্স ল্যাবরেটরি, বর্ডার গার্ড হাসপাতাল, শ্যামলীর আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট যক্ষ্মা হাসপাতাল ও আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯১টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এ সব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৪৩৫টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩০টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ২০০ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৬ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৪ জন।

অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৪০ এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৮২৫ জন (অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোট সুস্থের সংখ্যায় ভুল উল্লেখ আছে। আগের দিনের মোট সুস্থের সঙ্গে নতুন সুস্থ সংখ্যা যোগ করলে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২৫ জন হয়)। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ ও নারী ১১ জন। সর্বোচ্চ ২৩ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৭, চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহীতে ৪, রংপুরে ৩, বরিশালে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৪ ও বাড়িতে ২ জন। মৃতদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১, ২১-৩০ বছরের ১, ৩১-৪০ বছরের ৩, ৪১-৫০ বছরের ২, ৫১-৬০ বছরের ১৭ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ২২ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৫৩ ও নারী ৭৮৭ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও নারী ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৯১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮৪৭, খুলনায় ৩০২, রাজশাহীতে ২৪৭, সিলেটে ১৭৪, রংপুরে ১৫৪, বরিশালে ১৪৪ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮২১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২০ হাজার ২৯৮ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৮৩ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ হাজার ৩৯২ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৫৭ হাজার ৭১০টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ১০৪ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ১৩ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৭৮৯টি ও ৩০৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৮৯টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৩৪টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৬টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৬০২টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৬টি।