করোনায় মৃত্যুর ১০ দিন পর রোগীর খোঁজ নিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ফোন

ছাগলনাইয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছেন ৮ আগস্ট। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর এমনকি সুস্থ ঘোষণা করতে মঙ্গলবার সকালে ফোন করা হয়েছিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। তখনি জানা গেল শনাক্ত হওয়ার দুইদিনের মাথায় তিনি মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ৫৪ বছর বয়সী আবদুল করিম জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ৭ আগস্ট শুক্রবার নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে তার করোনা পজিটিভ আসে। সেদিন রাতে অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরদিন ৮ আগস্ট শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওইদিন বিকেলে তাকে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার সূত্র জানায়, আবদুল করিম দীর্ঘদিন আবুধাবীতে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থবোধ করায় ১০ মার্চ স্বল্পসময়ের ছুটিতে দেশে ফিরে আসেন। ৩ এপ্রিল তার প্রবাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি ২ ছেলে ও ৩ কন্যা সন্তানের জনক।

আবদুল করিমের মেজো মেয়ে মোমেনা ছিদ্দিকা জান্নাত অভিযোগ করেন, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো ধরনের খোঁজখবর নেয়া হয়নি। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে থাকাকালীন সময়েও যথোপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় আমার বাবা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শুক্রবার রাতে মুমূর্ষু অবস্থায়ও অনেক ডাকাডাকি করেও কোন চিকিৎসক-নার্সকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শিমুল বড়ুয়া জানান, সাধারণত কভিড শনাক্ত হওয়ার ৮-১০ দিন পর রোগীর খোঁজখবর জানতে ফোন দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাধানগর ইউনিয়নের ওই ব্যক্তিকে ফোন দেয়া হলে তিনি মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সঠিক সময়ে খোঁজখবর নেয়া সম্ভব হয় না।