স্কেলিং শব্দটি ডেন্টাল চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে হয়। আমাদের শরীরের পুষ্টিসহ সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে মুখগহ্বরের সুস্থতার ওপর, কারণ এটি শরীরের সবচেয়ে বড় প্রবেশপথ। অথচ মুখগহ্বরের যতেœ আমাদের উদাসীনতা স্পষ্ট, সারা দিনে কত কিছু খাই কিন্তু দাঁত ও মুখের অভ্যন্তর কতটা পরিষ্কার রাখি?
যে পাত্রে রান্না হয়, যে প্লেটে খাওয়া হয়, যে হাত ব্যবহার হয় এর সবকিছুকে পরিষ্কার রাখতে সচেষ্ট হলেও যে মুখ থেকে খাবার হজমোপযোগী হয়, দেহে প্রবেশ করে, সেখানটা অপরিষ্কার রয়ে যায়। মুখের অভ্যন্তরের সংবেদনশীল স্থানগুলোকে নিয়ম না জেনে অপরিষ্কার রাখা থেকে জীবাণুর সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে ডেন্টাল প্ল্যাক ও পাথর। এখান থেকেই দাঁতে গর্ত, মাড়িরোগসহ মুখের সিংহভাগ রোগের সূত্রপাত, আর বেশির ভাগ ডেন্টাল রোগ শুরুতে কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না। সে জন্যই ডেন্টাল চিকিৎসরা ছয় মাস অন্তর তাদের পরামর্শ নিতে জোরালো তাগিদ দেন আর যারা মুখ পরিষ্কারে অবহেলা করে তাদের স্কেলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্কেলিং কী
এটি একটি নিরাপদ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দাঁতের পৃষ্ঠে জমে থাকা সব ক্ষতিকর পদার্থকে দূর করা হয়, মুখ হয় স্বাস্থ্যসম্মত, স্কেলিং থেকে কোনো ক্ষতি বা দাঁত দুর্বল হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত আল্ট্রাসনিক বা হাত স্কেলারের মাধ্যমে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়, আল্ট্রাসনিক পদ্ধতি অধিক জনপ্রিয় হলেও করোনাকালে কভিড নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে এ থেকে তৈরি অদেখা ক্ষুদ্র জলকণা চেম্বারের পরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আর তাই অনেকে এখন সাময়িকভাবে হাত যন্ত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কত দিন পরপর স্কেলিং করতে হবে সেটা নির্ভর করে মুখের স্বাস্থ্যসচেতনতার ওপর, নিয়মমাফিক দাঁত পরিষ্কার, ফ্লস ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, শরীরের অবস্থা, দাঁতের গঠন, লালার স্বাভাবিকতা ইত্যাদির ওপর।
উপকারিতা
মাড়ি ও দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত সংযুক্তি পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
দাঁতের ফাঁকে খাবার জমা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, মনগড়া পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় রুটিনমাফিক স্কেলিং জরুরি।
মুখগহ্বরকে স্বাস্থ্যকর ও রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
দাঁতের অবাঞ্ছিত দাগ দূর হয়।
সাময়িক অস্বস্তি
স্কেলিং অনেকটা ব্যথামুক্ত চিকিৎসা, তবে মাড়িরোগের তীব্রতা বাড়লে দাঁত শিন শিন করে ও মাড়িতে ব্যথা লাগতে পারে, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় অবশের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা শেষে দুই থেকে তিন দিন বেশি ঠা-া পানি বা শক্ত খাবার না খাওয়া ভালো। সাময়িক দাঁতে অতিসংবেদনশীলতা অনুভব হতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অল্প সময়ে সব স্বাভাবিক ওয়ে ওঠে। ধূমপান, পান, জর্দা পরিহার করা উচিত।
সাবধানতা
শরীরের অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, লিভারের রোগ বা প্রেগনেন্সির বিষয় থাকলে স্পষ্টভাবে বলতে হবে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসককে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।
স্কেলিং অতি সাধারণ চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও চিকিৎসকের পর্যাপ্ত জ্ঞান ও যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণে অবহেলা থাকলে রোগীর বিপদ হতে পারে, তাই ভাল চিকিৎসক খুঁজে নিন।