বাংলা একাডেমি আইন তৈরি হওয়ার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তৈরি হয়নি প্রবিধান। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বাংলা একাডেমির সামগ্রিক কার্যক্রম। এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মাঝে তৈরি হয়েছে বেতন বৈষম্যসহ নানা জটিলতা। বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধন ও গবেষণার জন্য মূলত প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হলেও গত দশ বছরে হাতেগোনা কয়েকটি কাজ ছাড়া গবেষণার কাজ তেমন হচ্ছে না। বিভিন্ন বিভাগে নেই পর্যাপ্ত জনবল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রীর এক ঘোষণার ফলে গত ১০ বছরে পদোন্নতি হয়নি এমন অনেক কর্মকর্তার বেতন বেড়েছে, কিন্তু উচ্চপদে আসীন অনেক কর্মকর্তার বেতন বাড়েনি। ফলে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা এখন বেশি বেতন পাচ্ছেন।
বাংলা একাডেমিতে মোট বিভাগ রয়েছে ৮টি। এগুলো হলো : গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ; অনুবাদ, পাঠ্যপুস্তক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ; জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ; বিক্রয় বিপণন ও পুনর্মুদ্রণ; সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন; গ্রন্থাগার; ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা; প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা। এর মধ্যে দুটি বিভাগে কোনো পরিচালক নেই, একটি বিভাগের পরিচালক আছেন চলতি দায়িত্বে। উপ-বিভাগের হিসাবে যে কজন উপ-পরিচালক থাকার কথা ছিল তাও নেই। আন্তর্জাতিক সংযোগ নামক উপ-বিভাগটি সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে। অনুবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগেও রয়েছে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব।
বাংলা একাডেমি আইন প্রণীত হয় ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি বাংলা একাডেমি প্রবিধান। এর প্রভাব পড়েছে গবেষণার ক্ষেত্রেও। গত দশ বছরে হাতেগোনা কয়েকটি কাজ ছাড়া বাংলা একাডেমিতে সেই অর্থে কোনো বড় গবেষণার কাজ হয়নি। বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা এমন কিছু হাতেগোনা গবেষণা ও গ্রন্থ প্রকাশ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাজ নেই। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা’র সব জেলার বই এখনো প্রকাশ হয়নি। তাছাড়া প্রকাশিত বইগুলোর মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। নেই গবেষণা কাজের ধারাবাহিকতা।
বাংলা একাডেমিতে সর্বশেষ পদোন্নতি হয় ২০১২ সালে। এরপর প্রবিধানের অজুহাতে আট বছর কোনো পদোন্নতি হয়নি সেখানকার কর্মকর্তাদের। কিন্তু এই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তৈরি হয়েছে বেতন বৈষম্য। একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রবিধান-এর খসড়া তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এটি এখন সরকার চূড়ান্ত করবে।’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় সচিব পরিবর্তন হওয়ায় প্রবিধান তৈরির কাজটি পিছিয়েছে। পাশাপাশি এ কাজে এক ধরনের অবহেলাও রয়েছে। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। সব কাজ দ্রুত করার জন্য আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা রয়েছে। প্রবিধানের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে থাকতে পারে। সেটি খোঁজ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে দ্রুত করার চেষ্টা করব।’