নরসিংদীতে অপু দাস (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে শহরের হাজিপুর মধ্যদাস পাড়া এলাকায় নিজবাড়ীর সামনের সড়কে তাকে হত্যা করা হয়।
এ সময় তাদের বাধা দিতে এলে দুর্বৃত্তরা নিহতের ভাইসহ দুইজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে আহতাবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলামিন নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে।
নিহত অপু দাস হাজিপুর মধ্যদাস পাড়া এলাকায় মৃত অনিল দাসের ছেলে। তিনি ভিডিও এডিটিংয়ের ব্যবসা করতেন।
আহতরা হলেন- অপু দাসের ছোট ভাই শিবু দাস (২৫) ও শহরের পূর্বদত্তপাড়ার আবদুস ছাত্তার ভূইয়ার ছেলে আলআমিন (৪৫)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে মানিক নামে এক সাউন্ড ব্যবসায়ীকে ধাওয়া দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মানিক অপুর বাড়ির ভেতর দিয়ে ঢুকে পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় হইচই শুনে ছোট ভাই শিবু দাস ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এ সময় দুর্বৃত্তরা শিবুর উপর চড়াও হয়। তারা মানিককে বের করে দিতে বলেন। অন্যথায় ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
শিবু তার বড় ভাই অপুকে খবর পাঠান। অপু আসার পরপরই দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় রাস্তায় আলামিন নামে আরও এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়।
পরে তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অপুকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আলামিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
নিহতের ছোট ভাই শিবু দাস বলেন, হইচই শুনে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই কয়েক জন যুবক আমাকে মানিককে বের করে দিতে বলেন। কিন্তু আমি মানিক নামে কাউকে চিনি না বলেও তারা বিশ্বাস করছে না। পরে আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। কিসের টাকা জানতে চাইলে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। পরে আমি বড় ভাইকে ফোন দেই। এর মধ্যে তারা আমাকে ছোরা দিয়ে আঘাত করে। পরে আমার ভাই এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।