বরগুনায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অর্ধ শতাধিক গ্রাম

টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বরগুনার ৬ উপজেলার অর্ধ শতাধিক গ্রাম। ভোগান্তিতে পানি বন্দী মানুষ।

শুক্রবার অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ্ ছিল। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ছে জোয়ারের পানি। নতুন করে ভাঙনও দেখা দিয়েছে বেড়িবাঁধে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বরগুনার প্রধান তিনটি নদীতে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে জোয়ারের পানি। অমাবস্যার প্রভাবে পায়রা নদীতে বিপদ সীমার ওপর ৪৭ সেন্টি মিটার, বিষখালী নদীতে বিপদ সীমার ৬২ সেন্টিমিটার এবং বলেশ্বর নদীতে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জোয়ারের প্রবাহিত হয়েছে।

প্লাবিত হয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা ,পোটকাখালী, বাওয়ালকার, মাইঠা, খাজুরতলা আবাসন, ফুলতলা আবাসন; তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ফকির হাট, সোনাকাটা, নিদ্রাসকিনা, তেতুলবাড়িয়া, আশার চর, নলবুনিয়া, তালুকদারপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, মৌপাড়া, ছোটবগী; আমতলী উপজেলার ঘোপখালী, বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী, ফেরীঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট, আমুয়ার চর; বেতাগীর ঝোপখালী, কেওয়াবুনিয়া,কালিকাবাড়ী, বামনার, রামনা,অযোধ্য, পাথরঘাটার, রুহিতা,পদ্মা, বাদুরতলা, চরদোয়ানী, কুপধন, কাকচিড়া এলাকাসহ চর ও নিম্নাঞ্চলের অর্ধ শতাধিক  গ্রাম।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বীজতলা ও ফসলি জমি। ভেসে যাচ্ছে মৎস্য খামার।

তালতলী তেতুলবাড়িয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ওই বাঁধ রক্ষায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা দিচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী ও উত্তর টিয়াখালী আবাসনসহ ১০ টি আবাসন পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই আবাসনের লোকজন গত চার দিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। পাথরঘাটায় পদ্মা এলাকায় বেড়িবাঁধে ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এছাড়াও পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যায়। এতে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। একই অবস্থা বড়ইতলা বাইনচটকি ফেরিঘাটের।

বড়ইতলা খেয়াঘাটের মুদি দোকানদার মিজানুর রহমান বলেন, গত তিন দিন যাবৎ একইভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তালতলীর তেতুঁলবাড়ীয়া গ্রামের মো. জসিম হাওলাদার বলেন, জোয়ারের পানিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ওই বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বালুর বস্তা দিয়েছে। আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে বাজার তলিয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দিয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, জোয়ারের পানিতে চর ও নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে বালুর বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা চলছে।