পদ আছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু নামেই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। শিশু, মেডিসিন ও সার্জারিসহ একাধিক বিভাগ কিংবা পদ থাকলেও নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১৮ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। উদ্বোধনের পর থেকে পদ থাকলেও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই সেখানে। অথচ মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, গাইনি, কার্ডিওলজি, চক্ষু, চর্ম, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিকস ও মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে ২০টি। তিনটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা কার্যক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১২ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। ২০ জন নার্সের মধ্যে আছেন ১৩ জন। পরিসংখ্যানবিদের পদটিও শূন্য। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও এসবের কোনো টেকনিশিয়ান নেই। এতে রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। দুটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। গর্ভবর্তীদের অস্ত্রোপচারে ২০ কিমি দূরে মৌলভীবাজার যেতে হয় ভুক্তভোগীদের।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সালাহউদ্দিন, রোজিনা বেগম, সাজু মিয়াসহ একাধিক রোগী জানানÑ বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসার জন্য তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে অন্যত্র গিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় তাদের। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে। তবে টেকনিশিয়ান না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।