৬ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার পদায়নের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডকে ৬টি অঞ্চলে বিভক্ত করে এসব অঞ্চলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নে আট বছর আগে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর সম্প্রতি চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় নগরীর বাসিন্দারা বেকায়দায় পড়েছেন। জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ পেতে নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। চসিক কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে নাগরিকসেবা ত্বরান্বিত করতে চসিকের তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছয় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার পদায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।   

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় গত ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এমতাবস্থায় গত ৫ আগস্ট চসিকের পঞ্চম পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৪১ কাউন্সিলর ও ১৪ সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিদায় নেন। পরে আইন অনুযায়ী চসিক পরিচালনায় ১৮০ দিনের জন্য নগর আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। যিনি মেয়রের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রশাসক হিসেবে গত ৬ আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলর পদগুলো শূন্য রয়েছে। এতে ওয়ার্ডগুলোতে নানা ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নাগরিকের সেবা দিতে ৪১ ওয়ার্ডকে ৩টি জোনে ভাগ করে চসিকের ৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১-১৪নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলমকে, ১৫-২৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াকে এবং ২৯-৪১নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিব আবু সাহেদ চৌধুরীকে।

চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা রয়েছে। নগরবাসী সেবা সহজে পেতে এই ৬টি অঞ্চলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে। সেখানে পদায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যেভাবে চাইবে, সেইভাবে হবে। কথায় নয়, আমি কাজে বিশ্বাসী। আমি চাই নাগরিকসেবা বাড়াতে।’

চসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর সরকারি গেজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল চসিকের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এয়াকুব নবীকে এসব অঞ্চলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য কার্যালয় প্রস্তুতের জন্য চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমদ একটি নির্দেশনা জারি করেছিলেন। কিন্তু ‘অদৃশ্য কারণে’ তা আট বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।

গেজেট অনুযায়ী, ৬টি অঞ্চলের মধ্যে ১ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে নগরীর ১, ২, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে দক্ষিণ পাহাড়তলী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, কুলগাঁও, জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, পশ্চিম ষোলশহর, শুলকবহর, মুরাদপুর (অংশ), পূর্ব নাসিরাবাদ ও খুলশী। ২ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৪, ৫, ১৭, ১৮, ১৯ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড। এলাকাগুলো হচ্ছে চান্দগাঁও, চর রাঙামাটিয়া, মোহরা, চরমোহরা, পূর্ব ষোলশহর, বাকলিয়া, পাথরঘাটা (অংশ)। ৩ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে, ১৪, ১৫, ১৬, ২০, ২১, ২২, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভিত্তিক এলাকাগুলো হচ্ছে, লালখানবাজার, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), উত্তর পাহাড়তলী, খুলশী, জয়পাহাড়, আলম শাহ, কাঠগড়, ইমামগঞ্জ, চন্দনপুরা, নিজশহর, কাসিমবাজার, মুরাদপুর (অংশ), রুমসঘাটা, আন্দরকিল্লা, রহমতগঞ্জ, দক্ষিণ পাহাড়তলী, এনায়েতবাজার, বটতলী, কর্নাট, ফিরিঙ্গীবাজার, গুরিবাজার, মনোহরখালী, পাথরঘাটা (অংশ), সুজা কাঠগড়।

৪ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে, পাঠানটুলী, আগ্রাবাদ আসকারবাদ, গোসাইলডাঙ্গা, মোগলটুলি, মাদারবাড়ি, মগবাজার ও নলসা। ৫ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে, উত্তর পাহাড়তলী, লট ৯ পাহাড়তলী, পূর্ব পাহাড়তলী, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, সরাইপাড়া, পশ্চিম নাসিরাবাদ, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), রামপুর ও উত্তর হালিশহর। ৬ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে মধ্য হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, উত্তর পতেঙ্গা, দক্ষিণ পতেঙ্গা ও পূর্ব পতেঙ্গা।

এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এতদিন চসিকের অর্গানোগ্রাম ছিল না। ২০১৯ সালে অর্গানোগ্রাম পাস হয়েছে। এখন এসব পদে পদায়ন করা যাচ্ছে। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা রয়েছে। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মতো চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব শূন্যপদে পদায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসব পদে পদায়নের জন্য কর্মকর্তা চেয়েছে। আশা করি, এসব পদে শিগগিরই পদায়ন হবে। এসব পদ পূরণ হলে চসিকের হেড অফিসের চাপ কমবে। নাগরিকসেবা আরও ত্বরান্বিত হবে।