বর্তমান সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত ১০ উন্নয়ন কর্মসূচি সারা দেশের মানুষকে জানাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। দেশের ৪ হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন এবং ৩১৬টি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে এ প্রচার কার্যক্রম চালাবে তথ্য মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের এপ্রিলে এ বিষয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এখন এ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ প্রচার করা। এর মধ্যে রয়েছে আমার বাড়ি আমার খামার, আশ্রয়ণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও আয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সরকারকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের যে প্রক্রিয়া তাতে দেশের সব মানুষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার উদ্যোগ।
প্রকল্পের আওতায় গ্রামগঞ্জে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, মহিলা সমাবেশ, সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এছাড়া এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিরোনামে আউটরিচ প্রোগ্রাম এবং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল প্রকল্পের আওতায় ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ অঙ্গটি বাস্তবায়নকালে দেখা যায় যে, ৪ হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন ছাড়াও দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর ওয়ার্ডসমূহে বসবাসরত অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এ কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়াও বিপুলসংখ্যক ইউনিয়ন এ ধরনের প্রচারের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশের ৩১৬টি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মোট ৩ হাজার ১৮৬টি ওয়ার্ডে এবং ১ হাজার ৮৪৪টি ইউনিয়নে পুনরায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। কার্যক্রমটি মূল ডিপিপি থেকে ব্যয়ের হার অপরিবর্তিত রেখে কিছুটা পরিবর্তন করে প্রধামন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ এবং ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন সংযোগসহ জনকল্যাণে গৃহীত উদ্যোগসমূহ এ প্রচারের আওতায় আসবে। এছাড়া কয়েকটি অঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশব্যাপী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), ভিশন-২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সহযোগিতা করা, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশেষ প্রচার, ট্রাফিক আইন, বাল্যবিবাহ ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিশেষ প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে জনগণকে তথ্য প্রদান ও সচেতন করা।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বর্তমান সরকারের বিশাল কর্মযজ্ঞ দেশব্যাপী প্রচারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সংশোধিত প্রস্তাবে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত, কার্যকর ও বেগবান হবে।