২৬ মেট্রিক টন পলিথিন জব্দ ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২৬ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও তিন ব্যবসায়ীকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈয়দপুর পৌর শহরের বিচালীপট্টিতে উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব এবং পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব পলিথিন জব্দ করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রমিজ আলম, র‌্যাব-১৩ এর রংপুর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নীলফামারী অঞ্চলের পরিদর্শক কাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ।

র‌্যাব জানায়, বিচালীপট্টি এলাকার তিনটি গুদামে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ আছে এমন গোপন খবর পেয়ে র‌্যাব-১৩ রংপুর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন শনিবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় ওই এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের গুদাম থেকে ৬ মেট্রিকটন, শেখ আজাহারুল্লাহর গুদাম থেকে ১০ মেট্রিকটন ও নাসির উদ্দিনের গুদাম থেকে ১০ মেট্রিকটন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও ওই তিন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিন ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ-াদেশ দেন রমিজ আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রমিজ আলম বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী পলিথিন উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। ওই তিন ব্যবসায়ী আইন অমান্য করে বিক্রির উদ্দেশে নিজ নিজ গুদামে নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ করেন। ইতিপূর্বে ওই তিন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫০ মেট্রিকটন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ করে টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করায় তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর করবেন না বলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেন। জব্দ পলিথিনগুলো ধ্বংস করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।