দ. কোরিয়ায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ উপাসনালয়ে গণজমায়েত নিষিদ্ধ

শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা দক্ষিণ কোরিয়ায় ফের হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটি এখন দৈনিক রেকর্ড ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন সময় পার করছে। প্রথম দফার মতো এবারও রাজধানী সিউলের একটি গির্জার জমায়েত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়ে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

এ অবস্থায় গতকাল রবিবার থেকে উপাসনালয়গুলোতে বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে নাইট ক্লাব, বুফে রেস্তোরাঁ এবং সাইবার ক্যাফে। বন্ধ থাকবে সমুদ্রসৈকতগুলোও।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শুধু জেজু দ্বীপ ছাড়া আর প্রতিটি প্রদেশেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। সংক্রমণের এ ঢেউ আরও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে উদ্বিগ্ন তারা। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে আরোপ করা হয়েছে সামাজিক দূরত্ববিধিসহ আরও নানা বিধিনিষেধ। আগে শুধু রাজধানী সিউলে বিধিনিষেধ থাকলেও এবার তা বাদবাকি দেশজুড়েও বহাল করা হয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে।

গতকাল দক্ষিণ কোরিয়া গত মার্চের পর এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৯৭ জনের। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটিতে এমন তিন সংখ্যায় সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগই সংক্রমিত হয়েছে সিউলে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঁচ মাস পর সর্বোচ্চসংখ্যক ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিল। দৈনিক রেকর্ড রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্যে শুধু সারাং জেইল গির্জার এক জমায়েত থেকেই ৮০০ মানুষের ভাইরাস শনাক্ত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও দায়েগু শহরে শিনচেওনজি গির্জা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। সে সময় শহরটিতে দিনেই সর্বোচ্চ এক হাজার মানুষের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবারকার গির্জা থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর তফাত হচ্ছে, এবার দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে শুধু জেজু দ্বীপ বাদে প্রতিটি প্রদেশেই ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। তাছাড়া এবারের সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক দিক থেকেও সমস্যা তৈরি করেছে।

সারাং জেইল গির্জার অনুসারীরা মনে করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের বিরুদ্ধে সব বিরোধিতার অবসান ঘটাতে ইচ্ছাকৃতভাবে গির্জার সমাবেশে ভাইরাস ছড়ানো হয়েছে। অনেকে আবার উত্তর কোরিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটিয়েছে বলেও মনে করছে।

যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, এখানে কোনো চক্রান্ত নেই। সাধারণ কারণেই গির্জার সদস্যদের সংক্রমণ পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ছে।

কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের জন্য শুক্রবার পুলিশ গির্জার সব সদস্যের তালিকাও নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে আরোপ হয়েছে নতুন সামাজিক দূরত্ববিধি। সব মিলিয়ে সারাং জেইল গির্জা ঘিরে জনরোষ বাড়ছে।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজারের বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে অন্তত ৮ লাখ ৯ হাজার ১৫০ জন। এ সময়ের মধ্যে অবশ্য ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫১০ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুসারে গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৫৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার ২১৭ জনের। ব্রাজিলে শনাক্ত হয়েছে ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৩০৮ জন। মারা গেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৮৭ জন। ভারতে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৩২৪ জন করোনা রোগী। মারা গেছে ৫৬ হাজার ৮৮৩ জন। রাশিয়ায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৩৮৩ জনের। দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৭ হাজার জন। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯৮৭ জনের। পেরুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার। মারা গেছে অন্তত ২৭ হাজার ৪৫৩ জন।