করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিয়ে আলোচনায় আসা জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের একটি দল। জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা শারমিন চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে আজ সোমবার বা আগামীকাল মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে ভুয়া সনদ দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জেকেজির সিইও ও চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদকের উপপরিচালক মোছা. সেলিনা আখতার মনি। কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, করোনা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে কমিশন। করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল আরিফুল হক চৌধুরী, আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমার স্বামী জেকেজির কর্মকর্তা আ স ম সাঈদ চৌধুরী ও জেকেজির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদিন সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আজ সোমবার বা আগামীকাল মঙ্গলবার সাবরিনাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দুদকের এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডা. সাবরিনার দুটি টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তার আয়কর নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে সাবরিনা ও আরিফের সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে ডা. সাবরিনার বড় ধরনের অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য কমিশন পায়নি। আরিফুল হকের কিছু জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।’
জেকেজি হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে করোনার নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা না করে সনদ দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর গত ১৩ জুলাই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। গত ২৩ জুন জেকেজি ও ওভাল গ্রুপের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ।